ঢাকা, রোববার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

লিপু হত্যার এক বছরেও আসামি সনাক্তে উদ্ধার হয়নি ‘ক্লু’


শিহাবুল ইসলাম, রাবি

প্রকাশিত: ১২:৩৬ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার | আপডেট: ১২:৩৭ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার
লিপু হত্যার এক বছরেও আসামি সনাক্তে উদ্ধার হয়নি ‘ক্লু’

আজ ২০ অক্টোবর। গত বছরের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওইদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লিপু ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের শনাক্তে কোন ‘ক্লু’ উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি মামলার অবস্থার। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে এখন সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার চাইছে পরিবার। এদিকে লিপু হত্যাকাণ্ডের মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, আমরা দুঃখিত, ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। আমরা এক বছরেও লিপু হত্যাকান্ডের কোন কারণ জানতে পারিনি। আমরা লিপুর মা-বাবার কোন প্রশ্নের  উত্তর দিতে পারিনি।  যারা তদন্তের দায়িত্বে আছেন তাদের বলতে চাই তদন্তের নামে তালবাহানা বন্ধ করুন। পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই অবিলম্বের এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।

বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ রিন্টুর সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য দেন, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রুবেল, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয়, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বিউল ইসলাম রাতুল ও তওফিক তাজ এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান। এ সময় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে লিপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের দিন মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, পিবিআই, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লিপুকে হত্যা করা হয়েছিল বলে ওই সময় পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।



ওই সময় প্রক্সি জালিয়াত চক্রের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। এমনকি লিপুর চাচা বশীর বলেছিলেন, প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ার পর থেকে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর আগে রাজশাহীতে একটি চাকরি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে লিপু। এতে তার তিনমাস জেলও হয়েছিল।

লাশ উদ্ধারের দিন লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলামকে আটক করা হলেও তিনদিন পর হত্যা মামলায় মনিরুলকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। কিন্তু ৮ নভেম্বর জজকোর্ট থেকে মনিরুল জামিন পায়। জামিনের আগে মনিরুলকে চারদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে মনিরুলের দেওয়া তথ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান দাবি করেছিলেন। এরপর মামলার তদন্তভার পান নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম। এরপর আবার গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে পরিবর্তন হয়ে মামলার দায়িত্ব পায় সিআইডি।

লিপুর সহপাঠী বলেন, আবাসিক হলের মতো নিরাপদ জায়গায় লিপুকে হত্যা করা হলেও নয় মাসেও খুনিদের শনাক্ত করতে না পারা হতাশার। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এভাবে একটার পর একটা হত্যা হতে থাকবে অথচ বিচার হবে না- এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত লিপু হত্যার বিচার দেখতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, বারবার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও লিপু হত্যার সঠিক তদন্ত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি করতে পারেননি।

ছেলে হত্যার বিচারের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে লিপুর বাবা বদরউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার  পেরিয়ে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম- আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ সেটা জানাতেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। এখন বিচার চাই সৃষ্টিকর্তার কাছে। তিনিই আমার ছেলে হত্যার বিচার করবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডি’র কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, ‘লিপু হত্যার তদন্তে এখানো কোন অগ্রগতি নেই। আসামি সনাক্তে কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি। একটু সময় লাগবে।’

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান

Loading...