ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রাবি প্রক্টরের


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার
ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রাবি প্রক্টরের

গত ৬ আগস্ট রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের (রাবি) প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। এই দুই মাসের মধ্যে বদলে ফেলেছেন ক্যাম্পাসের অনেক নিয়ম কানুন। ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি যেমন প্রশংসা পাচ্ছেন, তেমনি প্রশংসা পাচ্ছেন শিক্ষক মহলের কাছেও।

যেকোনো ধরনের কাজে প্রক্টরের সহায়তা পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর অধ্যাপক রহমানের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন অমৃতবাজার পত্রিকার রাবি প্রতিনিধি শিহাবুল ইসলাম।

রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষার্থীদের বর্তমান অভিভাবক আমরা। আমি চাই না এই ছেলে-মেয়ে এখানে পড়াশোনা করতে এসে বিপথে চলে যাক। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থকেই শুনতে পাই- এই ক্যাম্পাসে মাদক খুব সহজলভ্য। আমি তাই প্রথমেই মাদক ঠেকানোর সিদ্ধান্ত নিই। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার যে সহকারী প্রক্টররা আছেন তাদের সহায়তা নিচ্ছি। তারা সকলেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিদিন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি।

প্রক্টর বলেন, কিছুদিন আগে আমরা সিরাজী ভবনের ছাদে একটা বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছি। সেখানে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদক সেবন করছে। তাদের হাতেনাতে আটক করি। তাদের কাছে পাওয়া মাদকদ্রব্য ছিল অনেক ব্যয়বহুল এবং প্রকট গন্ধ। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি এই মাদকদ্রব্যগুলো এরা ক্যাম্পাসের আশপাশ থেকে সংগ্রহ করেছে। এমন কাজ প্রথম ধরতে পারায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করিনি। প্রতিদিন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দিনে ও সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের ভিতর তদারকি করে এবং এমন কাউকে পেলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রয়েছে আমাদের।

ক্যাম্পাসের আশপাশের মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে প্রক্টর বলেন, আমরা অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা বাহিনির সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এ ব্যাপারে মতিহার থানা আমাদের সাহায্য করছে। আর হলে মাদক গ্রহণের ব্যপারে হল প্রাধ্যক্ষদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সর্বোপরি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।

অসামাজিক কার্যকালাপের প্রসঙ্গ তুলে প্রক্টর বলেন, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের থেকে বহিরাগতরা এ ধরনের কাজ করে ক্যম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। সর্বশেষ ঘটনা এটা বলছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এ ব্যাপারে আগে থেকে তৎপর আছে। সিনেট ভবন ও ফোকলোর মাঠের দিকে এ অসামাজিক কাজ বেশি হয়। তাই আমরা বিকেল ও সন্ধ্যার পর পুলিশের টহল বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এসময় তিনি ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য এ ব্যপারে সবাইকে এগিয়ে আসার ও সজাগ দৃষ্টি রাখার অহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠগুলোর বহিরাগতদের দখলে উল্লেখ করে প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠগুলোতে অনেকদিন ধরেই বহিরাগতরা উৎপাত করছে। বিশেষ করে কাজলা গেটের মাঠটি বহিরাগতরা বেশি দখল করে থাকে। আমি দায়িত্বে এসেই এ ব্যাপারে একটা কমিটি গঠন করেছি। আমাদের কমিটি প্রতিনিয়ত মাঠগুলো তদারকি করার মাধ্যমে বহিরাগতদের করছে। খুব শীঘ্রই আমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার জন্য মাঠগুলো ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবো। এক্ষেত্রে আমার শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ থাকবে, বাইরের কেও মাঠে ঝামেলা করলে শিক্ষার্থীরা যেন খুব দ্রুত প্রক্টর অফিস বা প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হয়ে দোষিদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে রিকশা ও অটোরিকশায় চলাচলে ভাড়া নির্ধারণ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের তালিকা করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। সেইসঙ্গে তাদের বিশেষ ধরনের একটি পোশাক সরবরাহ করা হবে। এর ফলে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চলাচলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/সাইফুল

Loading...