ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘এদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় যেন সাময়িক হয়’


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার
‘এদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় যেন সাময়িক হয়’

‘রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন সেটা দীর্ঘদিনের না হয়ে যেন সাময়িক হয়। শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের মাধ্যমে তাদেরকে যেন নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনযাপনের প্রতি আমাদের সহানুভূতির অভাব নেই। কিন্তু আমাদের সরকারের পক্ষে এতো বিপুল পরিমাণ মানুষকে বেশি দিন বহন করাও কষ্টকর। উন্নত বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এখন আমাদের এই দাবি।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত মানববন্ধনে এ সব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ মানবন্ধনের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

মানববন্ধনে অধ্যাপক সাহা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন, খাবারের ব্যবস্থা করছেন। মিয়ানমার থেকে আসা এ সব শরণার্থীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আমরাও তাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সবার কাছে আহ্বান জানাবো, প্রয়োজন হলে আমাদের খাবার তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাবো।’

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রকীব আহমদ বলেন, ‘মিয়ানমার তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। এটি জাতিগত ও মানবিক বিষয়। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান এমনকি বৌদ্ধরাও আছে। মানবিক কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করছে। এমনকি বাংলাদেশের ভেতরের একটি রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গাদের নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে এবং সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী সেটা বুঝেছেন এবং তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। এ দেশের সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সেই শক্তি জোগাবে।’

অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এএসএম রেজাউল করিম বক্শীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার, আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, আইন বিভাগের প্রভাষক শিবলী ইসলাম। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় একই দাবিতে মৌনমিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক কেবিএম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক, ফলিত রসায়নের অধ্যাপক সি এম মোস্তফা, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল আরা হোসেন, সমাজকর্মের অধ্যপক ড. সৈয়দা আফরীনা মামুন, আরবী বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ, লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি পারভেজ আজহারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান

Loading...