ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাবিতে এবার শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর অভিযোগ


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৭, সোমবার
রাবিতে এবার শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে এক ‘ভুক্তভোগী’ শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে হয়রানি করার অভিযোগে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগ দেয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাদিম মোস্তফা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘আমার শিক্ষক রুখসানা পারভীন বিভিন্ন সময় আমাকে অপমান, অপদস্থ এবং হয়রানি করেছেন। বিশেষ করে তিনি একাডেমিক ও মানসিকভাবে চরম নির্যাতনের মুখোমুখি করেছেন। পরীক্ষায় ফেল করে দেওয়ার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন।

‘তিনি তার বাসায় কাজের মেয়ে সরবরাহের জন্য আমাকে বাধ্য করতেন। অপরাগতা প্রকাশ করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবার ও পুলিশি হয়রানির হুমকি দিতেন। ৫-৬ বার কাজের মেয়ে সরবরাহ করেছি। পরবর্তীতে অপারগ হওয়ায় তিনি চতুর্থ বর্ষে তার কোর্সের (৪০৫) ইনকোর্স পরীক্ষা নেননি। কাজের মেয়ে সরবরাহ না করলে পরীক্ষা নেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। এমনকি পরবর্তীতে চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও আশানুরূপ নম্বর দেননি।’

নাদিম মোস্তফা অভিযোগ করেন, ‘কোনমতে স্নাতক শেষ করলেও স্নাতকোত্তরে ভর্তিই হতে পারিনি রুখসানা পারভীনের কারণে। তিনি কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন যে, আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি তাহলে তিনি আমাকে দেখে নেবেন এবং পুলিশি হয়রানি করবেন। তার এমন আচরণেই স্নাতকোত্তরে ভর্তি হইনি।’

এমন পরিস্থিতিতে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি।

অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষকা রুখসানা পারভীন বলেন, ‘আমি যে অভিযোগ দিয়েছি প্রশাসনকে তা ভিন্নখাতে প্রভাহিত করার জন্য এ অভিযোগ দিতে পারে। এগুলো সবই ওই ১১ শিক্ষকের ষড়যন্ত্র। তারা ওই শিক্ষার্থীকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে আমার করা অভিযোগকে ধামাচাপা দেবার জন্য। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখবে।’

জানা গেছে, নাদিম মোস্তফাকে ফোনে বিভিন্ন সময় পরীক্ষায় ফেল করে দেয়া, পুলিশি হয়রানির হুমকি, কাজের মেয়ে সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলতেন রুখসানা পারভীন। সেগুলো না করলে পরীক্ষায় তার ফলাফলে প্রভাব পড়বে বলেও উল্লেখ করেন রুখসানা পারভীন। সেসব ফোন রেকর্ডিং সংরক্ষিতও আছে।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোহবান বলেন, ‘আমি এখনও কোন অভিযোগপত্র পাইনি এবং এ বিষয়ে কিছুই শুনিনি।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন রুখসানা পারভীন। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘যৌন হয়রানির’ অভিযোগও তোলেন। এ সময় ১১ জন শিক্ষক রুখসানার বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ অভিযোগ তোলেন।

পরে গত ২ অগাস্ট বিভাগের শিক্ষকরা ৭টি কারণ উল্লেখ করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের প্রতি অনাস্থা ও রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন অধ্যাপক নাসিমা জামান অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তুলে বিভাগের ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দেন।

৪ অগাস্ট বিভাগের ১১ শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ৫ অগাস্ট রাতে সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেন ওই ১১ শিক্ষক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক বিষয় তদন্তের জন্য গত ৬ অগাস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান

Loading...