ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দিনভর অবরুদ্ধ কুবির উপাচার্য


কুবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৭, বুধবার
দিনভর অবরুদ্ধ কুবির উপাচার্য

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা উপেক্ষা করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া (তারেক) কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার অভিযোগে ঐ শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)।

আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে বুধবার সকাল থেকেই শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ক্যাম্পাসের মূল ফটকে অবস্থান নেয় এবং ক্যাম্পাসের মূল ফটকে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ সবগুলো অনুষদ ভবনও তালাবদ্ধ করে রাখে শাখা ছাত্রলীগ।

এতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাতটা) অবরুদ্ধ থাকেন।

এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে সর্বমোট ১১টি পূর্বনির্ধারিত চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নূরুল করিম চৌধুরী।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শোক দিবসের আলোচনা উপেক্ষা করে আমার এভাবে সময় দেওয়া উচিত হয়নি। এ বিষয়ে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল। শিক্ষার্থীরা কিছু বিষয় না বুঝার কারণে আমার কাছে এসেছিল। তাই তাদের অনুরোধে স্বল্প সময়ের জন্য ক্লাস নিয়েছি।’
 
বিভাগের অন্য একজন শিক্ষকের কোর্স বিষয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগের দিন, জাতীয় শোক দিবসে এভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাসে বসতে পারেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ভাল পড়িয়েছেন বলেই আমি জানি। তারপরও শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। অল্প সময়ের বিষয় মনে করে আমি তাদেরকে নিয়ে ক্লাসে বসেছি।’

জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত শোক সভার আলোচনা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া (তারেক)। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ।
 
ঘটনাপ্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনও কোন ধরনের সিদ্ধান্তে আসিনি। সার্বিক বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিবো।’

অমৃতবাজার/মাহফুজ/রেজওয়ান

Loading...