ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সবাইকে কান্নায় ভাসালেন জাককানইবি’র বিদায়ী উপাচার্য


ওয়াহিদুল ইসলাম, জাককানইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার | আপডেট: ০৯:৪২ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
সবাইকে কান্নায় ভাসালেন জাককানইবি’র বিদায়ী উপাচার্য

নিজের মেয়াদকাল পূর্ণ করে বিদায় নিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম। শনিবার এই শিক্ষকের বিদায় বেলায় তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুখু মিয়া বাংলো থেকে শেষবারের মতো বেরিয়ে এলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের প্রিয় এ মানুষটিকে ঘিরে দাঁড়ান।

কেউ বুকে বুক মিলিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন, কেউ পা ছুঁয়ে নিয়েছেন আশীর্বাদ, কারও কারও চোখ টলমলে হয়ে উঠেছিল জলে। বিদায়ী উপাচার্যের পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত এসে তাকে বিদায় জানান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মীরা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সুহৃদরা।



গত ১০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষী মহলের ভিড় বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ঐদিনই সারাবেলা ডিন, পরিচালক, প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, বিভাগীয় প্রধানগণ, প্রভোস্টদের সঙ্গে মিলিত হন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন এবং তার কর্মমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, আমার সফলতা ব্যর্থতা নির্ণয়ের পরিমাপক আজ আপনাদের হাতে আমার দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান উন্নয়নে আপনারা আজ আমাকে সফল বললেও সবার অংশগ্রহণ ছাড়া তা সম্ভব ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলের একান্ত প্রচেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার প্রাতিষ্ঠানিক মেয়াদকাল শেষে আমি নিজেকে সফল মনে করছি কারণ, আমার এই মেয়াদকালে কোন মা-বাবা’র সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্ট কোন সহিংসতা, হামলা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় প্রাণ দিতে হয়নি।


 
একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে সবার সহযোগিতামূলক অংশগ্রহণের ওপর আমি আমার সেই চার বছরের সময়কালে তা পেয়েছি। আরো মূল্যবান যা পেয়েছি তা হলো এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা ত্রিশালবাসীর অফুরান ভালোবাসা।

বিদায়ের কথা শুনে মনটা যেন দুঃখের সাগরে ভেসে যায়। আসলে প্রিয় কোন কিছুকে বিদায় দিতে চায় না মন, কিন্তু মানুষের জীবন তো নদীর মতো বহমান, চিরদিন এক স্থানে থেমে থাকে না৷ কর্মই সবার মাঝে তাকে স্মরণীয় করে রাখে তেমনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ বছরের ইতিহাসে একজন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, সৎ ও পরোপকারী শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম তার অসাধারণ ব্যাক্তিসত্বা ও নান্দনিক আচরণে সবার মনে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

অমৃতবাজার/ওয়াহিদুল/রেজওয়ান

Loading...