ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ২৫ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

কর্মচারীর পর এবার পুলিশ সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রফিকুল ইসলাম অভি নামের এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হল ফটকে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলামকে হলের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে জানিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পূর্ব) আমির জাফর বলেন, ‘সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরে দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। শফিকুল ওই শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। শফিকুলের চাকরি যেন না চলে যায় সেজন্য আবার ওই শিক্ষার্থী অনুরোধও করেছেন। প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে হলের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। পরবর্তীতে তার বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মারধরের শিকার রফিকুল ইসলাম অভি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম মতিহার হলের প্রহরীর দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভি বলেন, সকালে আমার অতিথি আসার কথা ছিল। আমি এজন্য আমার বোনসহ হল ফটকে রাখা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম ধূমপান শুরু করেন। আমার বোনের অসুবিধা হওয়ায় আমি তাকে দূরে গিয়ে সিগারেট খেতে অনুরোধ করি। এ কথা শুনে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। আমাকে বলেন, ‘তুই কে রে? তোর জন্য সিগারেট ফেলে দিতে হবে?’

এ সময় আমি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তিনি আমাকে তার রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করেন। পরে আবার বলেন, ‘তোর কোন বাপ আছে তাকে ডেকে নিয়ে আয়। না হলে বুকের ওপর বুট তুলে দেব।’ পরে আমি আমার হলের বড় ভাইদের ডেকে নিয়ে আসি। পরে প্রক্টর স্যারও আসেন।

মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে আমি হলের গেটে যাই। গিয়ে দেখি হলের শিক্ষার্থীরা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করছে। আমি তাদের শান্ত করি। পরে প্রক্টর স্যারের দফতরে বিষয়টি নিয়ে মিমাংসায় বসি।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করলেও পরে প্রক্টর দফতরে স্বীকার করেন।

প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রক্টর দফতরে বিষয়টি সমাধানে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অভি ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শফিকুলকে নিয়ে বসেন প্রক্টর। এ সময় শফিকুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চায়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় প্রক্টর দফতরে উপস্থিত ছিলেন মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) আমির জাফর, মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির, মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন, রাবি খেলোয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যায়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মজিবুল হক খান আজাদ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর দুই পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি। পুলিশ সদস্যের বিষয়ে পরবর্তীতে মহানগর পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি হয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে।’  

এর আগে গত ১৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে প্রশাসনিক ভবনের প্রকৌশল শাখার এক কর্মচারী। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনও পালিত হয়।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান

Loading...