ঢাকা, রোববার, ২৮ মে ২০১৭ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাবিতে জঙ্গি সন্দেহে তিন শিক্ষার্থী আটক


রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:০৯ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার
রাবিতে জঙ্গি সন্দেহে তিন শিক্ষার্থী আটক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জঙ্গি সন্দেহে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর থেকে তাদের পুলিশে দেয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আল তৌফিক সানি এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাকসুদুল হক। এরা তিনজনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এদের মধ্যে জুবায়ের হোসেনের বাড়ি নরসিংদী জেলার শেরপুর থানায়। তার বাবার নাম আকবর আলী। সাংবাদিকদের কাছে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ফেসবুকে কিছুদিন ধরে কয়েকজনের জিহাদী পোস্ট পড়ে আন্তরিকভাবে ‘মহব্বত’ চলে আসে। চার-পাঁচদিন আগে তারা আমার বন্ধু হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই জিহাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছি। জিহাদ ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কে জানতে পারছি। তাদেরকে আমি চিনি না বা কখনও দেখাও হয়নি। তারা আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইরাক-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিত।

ছাত্রলীগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জুবায়ের হোসেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘মধ্যরাতের অশ্বরোহী’ থেকে দীর্ঘদীন ধরে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লেখা পোস্ট এবং শেয়ার করে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু তাকে টুকিটাকি চত্বরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার স্মার্ট ফোনে জঙ্গিদের যুদ্ধের একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। তার ফেসবুকে মেসেজ বিনিময়ের সূত্র ধরে তার আরেক বন্ধু মাকসুদুল হককে সনাক্ত করা হয়। তার ফেসবুক আইডির নাম ‘পরবর্তী স্টেশন কবর’। একই সময় আল তৌফিক সানি নামের অপর শিক্ষার্থী টুকিটাকি চত্বরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর কাছে থেকে ১৬টি সিম পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জোবায়ের হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এসময় তার মুঠোফোন চেক করে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হয়। এরপর তার বন্ধু মাকসুদুল হককে সনাক্ত করি। এছাড়া টুকিটাকি চত্বরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় আল তৌফিক সানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মুঠোফোনে যথেষ্ট পরিমাণ প্রমাণ সাপেক্ষে মতিহার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, জঙ্গি সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ওই তিন শিক্ষার্থীকে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অমৃতবাজার/শিহাবুল/রেজওয়ান

Loading...