ঢাকা, রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ কারসাজিতে চিহ্নিত ৩৪১ প্রতিষ্ঠান, ৪৬টিকে তলব


অমৃতবাজার রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
পেঁয়াজ কারসাজিতে চিহ্নিত ৩৪১ প্রতিষ্ঠান, ৪৬টিকে তলব

 

সরকারের নানামুখি পদক্ষেপেও লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না পেঁয়াজের বাজারের। দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদন এখনও সেভাবে না হওয়ায় আমদানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

প্রায় পাঁচ মাস আগে ভারতীয় পেঁয়াজ বন্ধ করে দেয়ার পর এ সংকট দেখা দেয়। সংকট নিরসনে সরকার নানামুখি উদ্যোগ নেয়। মিয়ানমারের পাশাপাশি তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয় পেঁয়াজ। তারপরও, নিয়ন্ত্রণে আসেনি পেঁয়াজের ঝাঁজ।

একে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমাদানিকারকরা। ফলে গত দেড় মাসে নিত্যপণ্যটির ঊর্ধ্বমূল্যে পুরো বাজারের চিত্রই পাল্টে গেছে। বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা।

একশ্রেণির কারবারি পেঁয়াজের এই আক্রার বাজারকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য এটি।

পেঁয়াজের এমন নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ৩৪১টি আমদানিক কারক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বোর্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব প্রতিষ্ঠান কবে, কত দরে, কি পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং কত দরে বাজারে ছেড়েছে।  

এক্ষেত্রে বিস্ময়কর মুনাফার তথ্যাদি পাওয়া গেছে। এগুলো এখন যাচাই-বাছাই করে দেখছেন এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি চিহ্নিত এসব প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক তলব করা হচ্ছে।

সে অনুযায়ী সোমবার ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের আমদানি ও বিক্রির কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলা হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। আগামীকাল মঙ্গলবারও তলব করা হয়েছে ৩৩ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। প্রয়োজনে অধিকতর অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহায়তা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, গত অক্টোবরে ৩২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। সে সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল ৫২ থেকে ৫৮ টাকায়। কিন্তু সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৬০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রয় আর বিক্রয়মূল্যের মাঝে যে অস্বাভাবিক ব্যবধান, সেই ব্যবধানের বদৌলতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির এ বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে সরকারের তরফে।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম নিয়ন্ত্রণ-তৎপরতার অংশ হিসেবে সারাদেশ থেকে আড়াই হাজার খুচরা ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু যারা উপর মহলের কারবারি, তারা ছিল দৃষ্টি সীমা ছাড়িয়ে। এখন তাদেরই ধরার চেষ্টা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

এদিকে, গতকাল রোববারও রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়, পাকিস্তান থেকে আনা পেঁয়াজ নেয়া হচ্ছে ১৯০ টাকা।

সূত্র বলছে, ৩০ টাকায় কেনা পেঁয়াজ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে দুইশ টাকায়। ফলে, স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন।

অমৃতবাজার/এএস