ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীদের রেমিটেন্সে নতুন আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রবাসীদের রেমিটেন্সে নতুন আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থবছর যেসব প্রবাসী ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিটেন্স পাঠাবেন তাদের সবাইকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হবে।


অবৈধ চ্যানেল রুখতে এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও সুবিধা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমি চাই সম্পূর্ণ অর্থ যেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে।

এ জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তা করব। রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমার বিশ্বাস, দেশের সব খাত ঋণাত্মক দিকে প্রবাহিত হলেও রেমিটেন্স খাত কখনও পেছনের দিকে যাবে না।

এ বছর ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আহরণের আশা ব্যক্ত করে প্রবাসীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশে সুদ দিয়ে ব্যাংকে টাকা রাখতে হয়।

কিন্তু আমরা টাকার বিপরীতে আপনাদের সুদ দেই। ব্যাংকে টাকা রেখে দুর্ভাবনার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এ মুহূর্তে আমরা শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর আছি। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ অতিক্রম করেছে।

দিন দিন আমাদের রেমিটেন্স আহরণ বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। রেমিটেন্সের বিপরীতে ২ শতাংশ প্রণোদনা সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।

জনগণকে ভাষাগত এবং একাধিক কাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রবাসী আয় পুরস্কার বা রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বছর মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়- সাধারণ পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রেমিটেন্স আহরণকারী ব্যাংক ও রেমিটেন্স প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন এক্সচেঞ্জ হাউস।

পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কুয়েতপ্রবাসী জাকির হোসেন (এবি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ), কুয়েত প্রবাসী সিকদার বাচ্চু (সোনালী ব্যাংক), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডাক্তার আফতাব হোসেন (সোনালী ব্যাংক), জার্মান প্রবাসী মো. কামরুজ্জামান (ঢাকা ব্যাংক), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুকেশ রায় (সোনালী ব্যাংক), মালয়েশিয়া প্রবাসী আহমেদ রায়হান সামসি (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড), সিঙ্গাপুর প্রবাসী দেওয়ান মাসুদ কামার (ইস্টার্ন ব্যাংক), কাতার প্রবাসী ইকবাল হোসেন (ট্রাস্ট ব্যাংক), নাইজেরিয়া প্রবাসী নওশাদ আহমেদ (বেসিক ব্যাংক) ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডাক্তার ইশা খোশনু (এবি ব্যাংক)।

জেনারেল ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (প্রাইম ব্যাংক), ওমান প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (ন্যাশনাল ব্যাংক), কানাডা প্রবাসী মোস্তফা কামাল (ট্রাস্ট ব্যাংক), সিঙ্গাপুর প্রবাসী সুভাষ চন্দ্র মজুমদার (প্রাইম ব্যাংক), কাতার প্রবাসী নির্মল কান্তি ঘোষ (সোনালী ব্যাংক), কুয়েত প্রবাসী তৌহিদ আহমেদ (সিটি ব্যাংক), সোমালিয়া প্রবাসী নাসির আহমেদ (ট্রাস্ট ব্যাংক), আফগানিস্তান প্রবাসী রেজাউল বারী চৌধুরী (ট্রাস্ট ব্যাংক)।

ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- আরব আমিরাত প্রবাসী অলিউর রহমান (জনতা ও এনআরবিসি ব্যাংক), সিঙ্গাপুর প্রবাসী আবু তাহের মো. আমানুল্লাহ (এনআরবি ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী আবদুল করিম (জনতা ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী মাহবুব আলম (জনতা ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী শাহজাহান বাবলু (জনতা ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী আবদুন নূর কাউসার (জনতা ব্যাংক), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মঞ্জুরুল আলম (ইস্টার্ন ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী ইমাদ উর রহমান (এনআরবি ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী মাহবুবুল হাদী ফজলে রব (এনআরবি ব্যাংক), আরব আমিরাত প্রবাসী নুর মোহাম্মদ (জনতা ব্যাংক)।

রেমিটেন্স আহরণকারী শীর্ষ পাঁচ ব্যাংক- ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক।

অমৃতবাজার/ কেএসএস