ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার
‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনা

২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠিত হয়।

ওই কমিটি দুটি পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার পর গ্রন্থটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরপরই এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হওয়ায় গভর্নর ফজলে কবির এর বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ পুরনো বইয়ের প্রচ্ছদ। ভুল তথ্য থাকার অভিযোগ ওঠায় গ্রন্থটি বাতিল করে নতুন করে ছাপানো হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে জায়গা পেয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। সংশোধিত গ্রন্থে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি।

বইটির এই সংস্করণ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তদানীন্তন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি। এরই মধ্যে নতুন করে ছাপানো ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের প্রধান নির্বাহীর নির্দেশে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থটি নতুন করে প্রকাশের পদক্ষেপ নেয়া হয়। আগের গ্রন্থের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে নতুন করে একটি উন্নত ও পরিমার্জিত সংকলন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন গ্রন্থের প্রচ্ছদ আগের মতো থাকলেও রঙ বদলে গেছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। তবে অধ্যায় আগের গ্রন্থের চেয়ে একটি বেড়েছে। আগের গ্রন্থে অধ্যায় ছিল ৮টি। নতুন গ্রন্থে অধ্যায় রয়েছে ৯টি।

আগের গ্রন্থের মতোই নতুন গ্রন্থের প্রকাশক হিসাবে নাম রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জি এম আবুল কালাম আজাদের। আগের গ্রন্থের গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন এবং সম্পাদনা কমিটিতে জি এম আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও নতুন গ্রন্থের রিভিউ কমিটিতে তার নাম রয়েছে।

জানা গেছে, নতুন গ্রন্থের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিভিন্ন লেখা সন্নিবেশিত করার ক্ষেত্রে রিভিউ কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক জি এম আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এর আগে প্রথম মুদ্রিত বইয়ে জাতির পিতার ছবি না ছাপানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। তখন আদালত বলেছেন, প্রথম মুদ্রিত বইয়ে জাতির পিতার ছবি না ছাপানো অমার্জনীয় ভুল। তার ছবি খুঁজে না পাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে।

গেল বছরের ২৫ মার্চ ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়।

অমৃতবাজার/পিকে