ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্ষুরা রোগে মরছে গবাদিপশু, আতঙ্কে মালিকরা


মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার | আপডেট: ০৫:০০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার
ক্ষুরা রোগে মরছে গবাদিপশু, আতঙ্কে মালিকরা

মিরসরাইয়ে এফএমডি (ক্ষুরা) রোগে আক্রান্ত হয়ে মরছে গবাদিপশু। ভাইরাস জনিত এ রোগ একবার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধ করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশু মারা যাওয়ার কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে প্রান্তিক কৃষক। কিন্তু গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫টির বেশি গরু মারা গেলেও এর কোনো হিসাব নেই উপজেলা প্রাণি সম্পদ সম্প্রসারণ কার্যালয়ে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দু’তিন মাস এ রোগের প্রভাব কিছুটা বেশি থাকলেও এখন কমতে শুরু করেছে। প্রাণি সম্পদ কার্যালয় থেকে গত বছরের অক্টোবরে এফএমডি রোগে আক্রান্ত ৩৫টি, নভেম্বরে ৩০টি, ডিসেম্বরে ২৫টি ও জানুয়ারি মাসে ১৫টি গবাদিপশুর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া, নয়দুয়ার, মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম মায়ানী, হিংগুলীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশুর মুখ দিয়ে লালা পড়ে, খাবার খেতে, চায় না, পায়ের খুরার ফাঁকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শুরুতে চিকিৎসা করাতে না পারলে গবাদিপশু অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায় এবং এলাকার অন্য পশুদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

মসজিদিয়া এলাকার দুলাল অঞ্জন জানান, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের দু‘টি বাছুর মারা যায়। এছাড়াও কয়েকটি এলাকায় এ রোগে গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছে। এলাকায় অনেক গবাদিপশু আক্রান্ত হয়েছে। তবে ওই গবাদিপশুগুলোর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ভেটেরেনারী সার্জন নাবিল ফারাবি জানান, এফএমডি রোগের ৭টি ধরণ আছে। তবে এ রোগ প্রতিরোধের জন্য সরকারি যে ভ্যাকসিন দেয়া হয় তাতে ৩ ধরণের অর্থাৎ ও, এ, এশিয়া-১ এফএমডি রোগের কাজ হয়। কিন্তু সি, এসএটি-১, এসএটি-২, এসএটি-৩ রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। বিশেষ করে বহিরাগত গবাদি পশুর মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস, ও লালার মাধ্যমে এলাকায় এ রোগ দ্রুত, ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল পোদ্দার জানান, এ রোগটি শীত ও বর্ষাকালে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া দেশের বাহির থেকে আসা গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এ রোগ প্রতিরোধ করতে খামারিদেরকে গবাদিপশুর ঘর খাওয়ার সেড, কাপড় কাচার সোডা, পিপিএম (লাল ফটাশ) দিয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরী।রোগাক্রান্ত গবাদি পশু অন্য পশুগুলো থেকে আলাদা রাখতে হয়।

অমৃতবাজার/রেজওয়ান