ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৯ হাজার কোটি টাকা


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার
৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৯ হাজার কোটি টাকা

পুনঃতফসিলসহ নানা উদ্যোগের পরও বেশিরভাগ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এর ফলে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে ৯টি ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এক বছর আগে ৮টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মূলধন ঘাটতির তালিকার বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকগুলোর মোট মূলধন ঘাটতি ১৭ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৫ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের দক্ষতা না বাড়িয়ে জনগণের করের টাকায় বারবার মূলধন জোগান নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও সরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যামকে বলেন, মূলধন ঘাটতি ব্যাংকি খাতে একটা বড় সমস্যা। তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। মূলত খেলাপি ঋণের প্রভাবে মূলধন ঘাটতি হয়। আর এ ঘাটতি পূরণ করতে হয় মালিকদের। বেসরকারি ব্যাংকে ঘাটতি খুব বেশি নয়। তবে সরকারি ব্যাংকের বিপুল অংকের ঘাটতি পূরণ করা হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে, যা মোটেও উচিত নয়। এটি বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। এ সময় খেলাপি ছিল ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর তিন মাস আগে জুন শেষে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। যার বিপরীতে খেলাপি ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মূলধন ঘাটতি বাড়ে। তবে এ ৯টি ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের মূলধন ঘাটতি থাকলেও অন্য কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের গত সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ মূলধন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৯৩২ কোটি। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ঘাটতি ছিল মাত্র ১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। একইভাবে বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। গত বছর ছিল ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা থেকে কমে এসেছে ২৮৬ কোটি টাকায়। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অপর একটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি আগে না থাকলেও এবার ওই ব্যাংকটির ঘাটতি ৬৬২ কোটি টাকা।

বরাবরের মতো মূলধন ঘাটতির শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। এক বছর আগে যা ছিল সাত হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪৩ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬৬৯ কোটি টাকা। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি পড়লেও এবার পুরোপরি বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির কোনো মূলধন ঘাটতি নেই।

বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৩১ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০৮ কোটি টাকা। এছাড়া এসআইবিএলের ঘাটতি ৩৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডার বা মালিকদের জোগান দেয়া অর্থই মূলধন হিসেবে বিবেচিত। সারাবিশ্বে বাসেল কমিটি প্রণীত আন্তর্জাতিক নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে একটি ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে পরিমাণ মূলধন রাখতে হয়।

অমৃতবাজার/ইকরামুল