ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চালে অস্বাভাবিক মুনাফা, ঠকছে ক্রেতা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২১ এএম, ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার | আপডেট: ০৯:২২ এএম, ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার
চালে অস্বাভাবিক মুনাফা, ঠকছে ক্রেতা

পাইকারি বাজারে চালের যে দাম, তাতে ভোক্তা পর্যায়ে তার দাম আরো কম হওয়া উচিত ছিল। খুচরা বিক্রেতারা অস্বাভাবিক হারে মুনাফা করছেন। বেশি লাভ করার পেছনে খুরচা বিক্রেতাদের নজিরবিহীন যুক্তিও দেখা গেছে। তাদের দাবি, পাইকারিতে দর উঠানামা করে বলে তারা একটি দাম স্থির রাখেন।

রাজধানীর একটি পাইকারি বাজার এবং এলাকার খুচরা বিভিন্ন বাজার ঘুরে কেজিপ্রতি পার্থক্য ১৩ টাকাও (২৫ শতাংশ) পাওয়া গেছে। আর আট থেকে ১২ টাকা পার্থক্য দেখা গেছে বেশিরভাগ চালের দরে। অথচ রাজধানীর কেন্দ্রে কারওয়ান বাজারে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের তিন থেকে চার টাকা দেখা গেছে।

২০১৭ সালে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির পর এবার ব্যাপক ফলনের তথ্যই দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আর ফলন বেশি হওয়ায় ধান বেচতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত দর পাচ্ছে না কৃষক। তবে চালের দাম আবার সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে চালের দামে কারসাজি হচ্ছে কোথাও।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬.২৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর আগের বছরের ফসলহানির প্রভাব এবার কাটিয়ে উঠলেও চিকন চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেশি।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে পাইকারি বাজারে মোটা চালের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে গুটি, গোডাউন গুটি, বিআর-২৮ ও পাইজাম। এর মধ্যে গুটি জাতভেদে ৩৮ থেকে ৪১ টাকা, গোডাউন গুটি নামে সরকারি চাল ৩৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪৫ টাকা ও পাইজাম ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে এসব চাল কেজিতে ছয় থেকে আট টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি মার্কেটের মাস্টার এন্টারপ্রাইজের চাল বিক্রেতা কামরুল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায়ীরা অবশ্যই কেজিতে তিন চার টাকা বেশি নিবে। তাই বলে, কেজিতে ৮/১০ টাকা বেশি এটা তো যুক্তিসঙ্গত না।’

চালের দামে সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা গেছে চিকন চালের ক্ষেত্রে। কৃষি মার্কেটের পাইকারি দোকানে এক ধরনের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৪৯ টাকা কেজি দরে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের যুক্তির শেষ নেই। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে হুটহাট দাম বাড়ে। কখনো দিনে কেজিতে চালের দাম বেড়ে যায় ৪-৫ টাকা পর্যন্ত। খুচরা ক্রেতাদের থেকে হুটহাট বাড়তি দাম আদায় করা যায় না, এমন যুক্তিতে চালের দামকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে চান তারা।

খুচরা বিক্রেতা মো. মুরাদ বলেন, ‘চাল আনার একটা খরচ আছে, লেবার খরচ আছে সব খরচ দিয়া তারপর লাভ। পাইকাররা চাইর/পাঁচ টাকাও বাড়ায়। আপনি আজ যে দামে চাল নিবেন কাল কি তার থেকে চার/পাঁচ টাকা বেশিতে নিবেন? কেউ নিব না। ফাও একটা চিল্লাচিল্লি। তাই আমরা সব দিক ঠিক রাইখাই ব্যবসা করি।’

অমৃতবাজার/জয়