ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাজেট প্রতিক্রিয়া: বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
বাজেট প্রতিক্রিয়া: বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন

শ্রমিকদের মুজুরি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণাসহ সাতদফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি বলেন, ‘প্রস্তাবিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ফিল্টার বিড়িতে ২৬ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছেন। অথচ বিড়ি শিল্প মালিকদের সঙ্গে গত ২০ মে এক বৈঠকে বলেছিলেন তিনি বিড়ির ওপর কোনো ধরনের শুল্ক আরোপ করবেন না।’

সংগঠনের সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার নির্দেশ দেয়ার পরেও তার নির্দেশ বাস্তবায়নে এক সপ্তাহ দেরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এটা কার স্বার্থে? বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থে কিনা আমরা জানতে চাই।

আমিন উদ্দিন জানান, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির ওপর অযৌক্তিক ভারতের চেয়ে ১৮ গুণ কর বেশি নির্ধারণের ফলে সারা দেশ জুড়ে বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে আমাদের দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলন আপনাদের লেখনির মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায় এবং বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানির কমদামি সিগারেটের মূল্যস্তর বৃদ্ধি করেননি, বরং কমিয়েছেন। দাম বাড়েনি বড়লোকের বেনসন সিগারেটের। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বিড়ি শিল্প বন্ধের জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন ২০৩০ সাল আর সিগারেট শিল্প বন্ধে তিনি সময় দিয়েছেন ২০৪০ সাল পর্যন্ত। দুটি একই জাতীয় পণ্য হওয়া সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রী সিগারেটের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাত দফা দাবি তিনি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ হলো: ১. বিড়ি শ্রমিকদের প্রতি বাজার মজুরী ১০০ টাকা করতে হবে। ২. ভারতের ন্যায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. ভারতের ন্যায় প্রতি হাজার শলাকার উপর ১৪ টাকা ট্যাক্স নির্ধারণ করতে হবে। ৪. বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষনা করতে হবে। ৫. ২০ লক্ষ শলাকার নিচে যেসব ফ্যাক্টরী বিড়ি উত্পাদন করে তাদের ট্যাক্স মুক্ত রাখতে হবে। ৬. বিড়ি শিল্প বন্ধের আগেই সরকার, বিড়ি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের এখন থেকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা গ্রহনে পদক্ষেপ নিতে হবে। ৭. সিগারেটের মতো বিড়ি শিল্পকেও ২০৪০ সাল পর্যন্ত রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙ্গালী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেন এবং রংপুর বিভাগ তামাক চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ফকির প্রমূখ।

অমৃতবাজার/মিঠু