ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে দেশের কেউ জড়িত নয়’


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ০৮ জুন ২০১৮, শুক্রবার
‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে দেশের কেউ জড়িত নয়’

নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি যাওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে তদন্ত করে দেখা গেছে দেশের কেউ এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। নিউইয়র্ক টাইমস ও আল জাজিরায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও এফবিআই এর গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন সত্ত্বেও এ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অনেক বিতর্ক হয়েছে। দেশের অনেক ‘স্বনামধন্য’ ব্যক্তিরাওবর্গ প্রমাণ ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকের নীরিহ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তাদের দায়ী করার চেষ্টা করেছেন। তবে এসব প্রচারণা এখন আর ধোপে টিকছে না।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইম ম্যাগাজিন এবং কাতারভিত্তিক আলজাজিরা টেলিভিশন দীর্ঘ তদন্ত শেষে যে দুটো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে পুরো  হ্যাকিং প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে ফিলিপিনের আরসিবিসি ব্যাংক থেকে অর্থপাচার হয়ে যাবার ঘটনাগুলোর পুংখানুপুংখ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। দুটো প্রতিবেদনের কোথাও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যে দায়ী রয়েছে এমন কোনো তথ্য আসেনি। বরং বলা হয়েছে কোনো দুর্বল টার্মিনালের মাধ্যমে গোলমেলে ওয়েব সাইট অথবা ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট দিয়ে ব্যাংকের কম্পিউটারে প্রবেশ করেছিল হ্যাকাররা।

এতে আরো বলা হয়, হ্যাকাররা চাইনিজ নিউইয়ার, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তাহান্তের ছুটির সুযোগ নিয়ে লেনদেনের অর্ডার দিয়েছিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা প্রিন্টারটি কারিগরিভাবেই অকেজো করে দিয়েছিল। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যতক্ষণে এই হ্যাকিংয়ের বিষয়টি টের পান ততক্ষণে হ্যাকাররা ফিলিপিনের অপরাধী ব্যাংকের সহায়তায় প্রায় পুরো অর্থই নগদায়ন করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ‘স্টপ পেমেন্ট’ নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাও ফিলিপিনের ব্যাংকটি গ্রাহ্য করেনি। ট্রিটিশ, রাশিয়ান, মার্কিন তদন্তেও একই তথ্য মিলছে।

এফবিআই থেকেও অনুরূপ প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এফবিআই এর তদন্তে সকল প্রতিবেদনেই বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘ভিকটিম’ বলা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের প্রভাবশালী কয়েকজন অপরিণামদর্শী ব্যক্তির অবান্তর কথাবার্তার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐ কর্মকর্তাদের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়ই শুধু ঘটানো হয়নি, ফিলিপিনের অপরাধী ব্যাংকটিও এসব কথা এখন তাদের পক্ষে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সাম্প্রতিক এসব আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন গুলোই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ছিল এই ঘটনার শিকার। অথচ বেশ কিছু স্বার্থাণ্বেষী মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে অবান্তর মন্তব্য করে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলেছেন। এই প্রতিবেদনগুলো পড়ে তাদের এখন অনুতপ্ত হওয়া উচিত।

অমৃতবাজার/জয়