ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রোজার বাজারে অনেকটাই ‘স্বস্তি’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ১৭ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রোজার বাজারে অনেকটাই ‘স্বস্তি’

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে মুসলমানদের কাছে পবিত্র মাস রমজান। সিয়াম সাধনার এই মাসে দিনে পানাহার বন্ধ রেখে রোজা রাখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তবে সন্ধ্যায় ইফতার করে রোজা ভাঙতে হয় এবং ভোরের আগে সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করতে হয়। এই দুটি সময় খাবারের জন্য বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ে।

রোজা আসার আগে আগে যেসব পণ্যের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ে, সেগুলোর দামও বেড়ে যায়। এবারও বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। তবে এবার চাল থেকে শুরু করে ডালজাতীয়সহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মসুর ডাল, রসুনের দাম। এর বাইরে ছোলা, বুট, বেসন, চিনি, গরুর মাংস, চিকন ও মাঝারি চালের দামও গত রোজার তুলনায় এবার বেশ খানিকটাই কম। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম অনেকটাই বেশি। আর ভোজ্যতেল, আলু, মুরগির মাংস, মাছের দামে খুব বেশি হেরফের নেই।

চালের বাজারেও কয়েক মাসের আগের তুলনায় স্বস্তি এসেছে। গত বছর এই সময় মোটা চালের দাম বেড়ে ৪৫ থেকে ৫২ টাকায় উঠে যায়। এখন মোটা চাল ৪০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর রোজায় চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা কেজি দরে। তবে এবার খুচরা পর্যায়ে এখন দাম ৫৬ থেকে ৬২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ডালের বাজারে স্বস্তি আরো বেশি। মসুর ডাল কেজিতে ৫৫ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে এখন। আর সবচেয়ে ভালো মানের ডাল পাওয়া যাচ্ছে ১১০ টাকায়। এক বছর আগে যার দাম ছিল সর্বনিম্ন ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০টাকায়।

রোজার মাসে তুমুল চাহিদা থাকা ছোলার দামও গত বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই কম। গত বছর রোজার আগে আগে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পণ্যটি। আর এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি করে। গত এক মাসে ছোলার দাম বাড়েনি, বরং কেজিতে দুই টাকার মতো কমেছে।

রোজায় চাহিদা বাড়ে এমন আরেকটি পণ্য বেসন। একে আসলে ডালের গুড়া বলা যায়। রোজায় ব্যাপক জনপ্রিয় আলুর চপ, বেগুনিসহ বিভিন্ন খাবার বানাতে ব্যবহার হয় এই পণ্যটির। গত বছর রোজায় বেসন বিক্রি হয়েছে কেজিতে ৭০ টাকায়। চলতি বছর এই পণ্যটির দাম ৬০ টাকা দরে। বলা হচ্ছে, ছোলার দাম কম থাকলে বেসনের দাম কম থাকবে।

পেঁয়াজের দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন বেশ খানিকটাই বেশি। গত বছর কেজিতে ২০ থেকে ৩২ টাকায় পাওয়া যেত যে পণ্য, এখন তার দাম ৩৫ থেকে ৫২ টাকা।

পেঁয়াজের দাম বাড়লেও স্বস্তি রশুনের দামে। গত বছর মানভেদে কেজিপ্রতি দাম ছিল ১০০ থেকে ২৪০ টাকা। এবার সেটি কমে হয়েছে ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। রোজায় তুমুল চাহিদা থাকে এমন একটি পণ্য খেজুর। বিক্রেতার জানান, এবার পণ্যটির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কেজি ১০ টাকা করে বেশি।

রোজায় চাহিদা বাড়া গরুর মাংসের দামও এবার আগের বছরের চেয়ে কেজিতে ৩০ টাকা কমে নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১ রোজা থেকে ২৬ রোজা অবধি দেশি গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ হয়েছিল কেজিপ্রতি ৪৮০ টাকায়, সেটি এবার নির্ধারণ হয়েছে ৪৫০ টকায়। ভোজ্যতেলের দামে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুব বেশি হেরফের নেই এবার।

অমৃতবাজার/জয়