ঢাকা, রোববার, ২৭ মে ২০১৮ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মটলাইফ ফাউন্ডেশন ফাইন্যান্সিয়াল ইনোভেশনে বিজয়ী আপন ওয়েলবিং


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ১০ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
মটলাইফ ফাউন্ডেশন ফাইন্যান্সিয়াল ইনোভেশনে বিজয়ী আপন ওয়েলবিং

বাংলাদেশে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন ইনক্লুশন প্লাস প্রতিযোগিতার বিজয়ী হয়েছে আপন ওয়েলবিং লিমিটেড। প্রতিযোগিতাটি মধ্যম আয়ের মানুষের আর্থিক প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়ে উদ্যোক্তা ও অলাভজনক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার জন্য উন্মুক্ত ছিল। ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে আপন ওয়েলবিং লিমিটেড গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জিতে নেয়।

তৈরি পোশাক কর্মীদের আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা এবং আর্থিক পরিষেবাগুলিতে সচেতনতা তৈরি ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রয়াশেই আপন ওয়েলবিং এর যাত্রা শুরু হয়। ফ্যাক্টরি এবং কমিউনিটি ভিত্তিক আপন এর ছাড়কৃত দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দোকানগুলিই এই উদ্ভাবনী সেবার কেন্দ্রস্থল, যেখানে শ্রমিকরা কম দামে ভালো পন্য কেনার পাশাপাশি বিনাপয়শায় স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা স্কিমের আয়তায় আসতে পারে যা তাদের নানা রকম আর্থিক ক্ষতি বা প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে। এছারা এখানে থাকছে সঞ্চয় সুবিধাও।

যেসব সংস্থা বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অগ্রগ্রামী ভূমিকা রাখছে তাদের জন্য প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত অভিনব এ প্রতিযোগিতায় সহায়তা করতে পেরে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন অত্যন্ত গর্বিত। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্যোগসমূহের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে মেটলাইফ থেকে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিযোগিতায় প্রশিক্ষক, বিচারক ও পরামর্শদাতা হিসেবে অংশ নিয়েছেন এবং সহায়তা প্রদান করেছেন।

“এটা আমার জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞ্যতা। ফাইনাল এর বিচারকরা সবাই ছিলেন দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা যারা দীর্ঘদিন ধরে ইনোভেসন ও আর্থিক ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রতিযোগের যে দীর্ঘ কয়েক মাসের যাত্রা ছিল, তার পুরটাই ছিল নিজের প্রোজেক্টটাকে কিভাবে আর উন্নত ও টেকসই করা যায় তার উপর ফিডব্যাক নেয়া বিচারক ও মেনটরদের কাছ থেকে। এই গ্রান্ট এর অর্থ আমার পরিকল্পকে আর ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।’’ সাইফ রাশিদ, কর্ণধার, আপন ওয়েলবিং লিমিটেড।

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার জিতে নেয় সপ আপ এবং তৃতীয় পুরস্কার ১২ হাজার মার্কিন ডলার জিতে নেয় গ্রীন ডেলটা ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এছারাও শাক্তি ফাউন্ডেশন ও সাজেদা  ফাউন্ডেশন উভয়েই জিতে নেয় রানারস-আপ এর ৫,০০০ মার্কিন ডলার এর চেক।

গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট হিসাবে ছিলেন অ্যানজিও অ্যাফ্যাআরস ব্যুরো- এর মাননীয় ডেপুটি জেনারেল কে এম আব্দুস সালাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “মেটলাইফ একটি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠান যা এই দেশে বহু বছর ধরে ব্যাবসা করে চলেছে। এর এরকম একটি সামাজিক উদ্যোগ আছে জানতে পেরে আমার ভালো লেগেছে। মেটলাইফ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যে আর্থসামাজিক  উন্নয়ন খাতে সংস্থাটি বিনিয়োগ করছে, তা প্রশংসনীয়, পাশাপাশি এরকম বিভিন্ন উদ্দ্যগকে প্রতিজগিতার মাদ্ধমে উদবুদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটিকে আমি সাধুবাদ জানাই।’’

প্রতিযোগিতা নিয়ে ভার্বের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সুজি সোসা বলেন, ‘উদ্ভাবন ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাবের ক্ষেত্রে করপোরেট ফাউন্ডেশন ও বহুজাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক উদ্যোগুলোকে সহায়তা করছে। এটা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।

মেটলাইফ ফাউন্ডেশন ও মেটলাইফ বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করে দেখিয়েছে, কীভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতা বিশ্বের কিছু বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা চিহ্নিতকরণে সহয়তা প্রদানে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। ‘তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ীদের আমাদের অভিনন্দন। তারা আরও অনেক বেশি মানুষের ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন পন্থার উদ্ভাবন করেছে।’

দ্য ইনক্লুশন প্লাস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতাটি, মেটলাইফ ফাউন্ডেশন ও ভার্বের অংশীদারিত্বে করা একটি বিস্তৃত কর্মসূচির অংশ। প্রতিযোগিতাটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২টি দেশে চলছে। ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতাটি আয়ারল্যান্ড, চীন, ভারত, মেক্সিকো, মিশর ও লেবাননে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতিতে লাভবান হয়েছেন যেখানে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সেবাখাতের সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: (inclusionplus.com)।

অমৃতবাজার/শাওন