ঢাকা, রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আমদানিতে রেকর্ড, রফতানিতে বিপর্যয়


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮, রোববার
আমদানিতে রেকর্ড, রফতানিতে বিপর্যয়

বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে আমদানি ব্যয় রেকর্ড গড়েছে, কিন্তু রফতানি আয়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলাহয়েছে, গত মার্চ মাসে রফতানিতে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের তুলনায় এ বছরের মার্চে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে, এই সময়ে রেকর্ড পরিমাণ আমদানি করতে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও রফতানি আয় কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনই এই চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। আগামীতে এই চাপ আরো বাড়বে। যেহেতু রফতানিতে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি। অথচ আমদানি ব্যয় ৩৩ শতাংশেরও বেশি। এর ফলে ক্রমেই বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।’ আহসান এইচ মনসুরের মতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে যে পরিমাণ টাকা লাগবে, সেই টাকা থাকলে সমস্যা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতদিন এভাবে চলবে। এই অর্থবছরেও বড় ধরনের টানাপড়েনে থাকতে হবে সরকারকে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে টানাপড়েন আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদক বলেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানি ব্যয় ছিল ৫০১ কোটি ৯১ লাখ ডলার। যদিও ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয় ছিল মাত্র ৩৭৬ কোটি ৯ লাখ ডলার। এই হিসাবে গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১২৬ কোটি ডলার।

২০১৮ সালের মার্চে রফতানি আয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। যদিও ২০১৭ সালের মার্চে রফতানি আয় হয়েছিল ৩০৯ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই হিসাবে গত বছরের মার্চের তুলনায় এই বছরের মার্চে রফতানি আয় কমেছে চার কোটি ২৮ লাখ ডলার।

অবশ্য রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের হিসাবে রফতানি প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ হলেও এ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭৯ টাকা ৭০ পয়সা। এ বছরের একই দিন ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮২ টাকা ৯৮ পয়সায়। অবশ্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বলছে, অধিকাংশ ব্যাংকই ঘোষিত মূল্যের বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। গত সপ্তাহের শেষ দুই কর্মদিবসে প্রায় সব ব্যাংকই ৮৪ থেকে ৮৬ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে। আর খোলাবাজারে (কার্ব মার্কেট) ৮৭ টাকার বেশি দামেও ডলার বিক্রি হয়েছে।

আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে চলতি হিসাবেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের চলতি হিসাবে ৬৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চলতি হিসাবে ৪২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

এই অর্থবছরের সাত মাসেই (জুলাই-জানুয়ারি) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১২ কোটি ৩০ লাখ (১০ দশমিক ১২ বিলিয়ন) ডলার। এই অংক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়েও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেশি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ ৩১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১০ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।

অমৃতবাজার/সবুজ