ঢাকা, রোববার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভারতের মতো বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবি বাংলাদেশে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ০৪ মার্চ ২০১৮, রোববার
ভারতের মতো বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণার দাবি বাংলাদেশে

বিড়ি শিল্প দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প, হাজার বছর ধরে এ শিল্প চলে এসেছে। এ শিল্পে কাজ করে ২০ লাখ মানুষের জীবন চলে। তাই সময় এসেছে এ শিল্পকে কুটির শিল্পের মর্যাদা দেয়ার।– এসব কথা বলেছেন গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি) এর সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবা কামাল। রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক মেজবা কামাল বলেন, আমরাও চাই ধূমপান মুক্ত সমাজ। কিন্তু যতোদিন ধূমপান থাকবে ততোদিন বিড়ি থাকবে। ২০৪০ সালের মধ্যে সরকার বাংলাদেশকে ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিড়ি শিল্পে ২০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান না করে এই শিল্প বন্ধ হলে শ্রমিকরা কোথায় যাবে?

তিনি আরও বলেন, গত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিড়ি শিল্পের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কিছুটা কমানো হয়েছিল। এরপরও যে শুল্ক আছে সেটা অনেক বেশি। ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে এটি করা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এই শুল্ক বাড়ানোর চিন্তা কোনো চিন্তা যাতে না করা হয়। উপরন্তু এই শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণা করে শুল্কমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ভারত সরকার এই শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও হাতে তৈরি বিড়িকে প্রণোদনা দেয়া হয়। বাংলাদেশকেও বিড়িকে কুটির শিল্প ঘোষণা করতে হবে। এই শিল্পকে শুল্কমুক্ত করা হলে লাভবান হবে ২০ লাখ শ্রমিক। কারণ এখন যে মজুরি তারা পান তা খুব অপ্রতুল। এই শিল্পে জড়িত ৭৫ ভাগ শ্রমিক নারী। তাদের কথা মাথায় রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিড়ি শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম. এ কে বাঙ্গালী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক আ. রহমান, পাবনা জেলা বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি হারিক হোসেন, নোয়াখালী জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাশেম আলী ও বরিশাল কারিগর বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।

অমৃতবাজার/মাসুদ