ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রবির বিরুদ্ধে ৯২৫ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:২৭ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার
রবির বিরুদ্ধে ৯২৫ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তুলে পাওনা প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) গত মঙ্গলবার পাঁচটি চিঠিতে ওই অংকের পাওনা পরিশোধের দাবি রবির কাছে পাঠায়।

এলটিইউ-এর কর কমিশনার মতিউর রহমান বলেন, “এটা বড় ধরনের কর ফাঁকি। অন্য কোনো টেলিকম কোম্পানি এভাবে কর ফাঁকি দেয়নি।” রবির কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ে ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেছেন, ‘ভিত্তিহীন’ অডিটের মাধ্যমে এনবিআর ‘অন্যায্য’ দাবি করছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে-

২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে রবি এসএপি সফটওয়্যার খাতে ৫৫৩ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৫২৮ টাকা ২০ পয়সার ভ্যাট এবং ১৫৮ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮৮ টাকা ৮৪ পয়সার উৎসে কর কম পরিশোধ করে ফাঁকি দিয়েছে।

রবি ও এয়ারটেল একীভূত করার ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকা ফি এবং এয়ারটেল লিমিটেডের নামে বরাদ্দ করা টু-জি তরঙ্গের নবায়ন ফি মিলিয়ে ৫০৭ কোটি টাকার ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ এনবিআরের পাওনা ৯১ কোটি ৫ লাখ টাকাও রবি পরিশোধ করেনি।

একই সময়ে অপারেটরটি ‘বিধি বহির্ভূতভাবে’ ১১৬ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬২ টাকা ২৫ পয়সার ভ্যাট রেয়াত দেখিয়েছে।

২০১২ সালে ইন্টারকানেকশনে (এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কল) ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৫ হাজার ৮০২ টাকা ৩ পয়সা এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬ হাজার ৩৪৮ টাকা ৬৭ পয়সার ভ্যাট পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে রবি।

সব মিলিয়ে রবি মোট ৯২৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২৯ টাকা ৯৯ পয়সার কর ফাঁকি দিয়েছে বলে দাবি এনবিআরের।

“অডিট রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা সময় চাইলাম অ্যাসেস করার জন্য। তারা সময় না দিয়ে ডিমান্ড নোট পাঠিয়ে দিলেন। আমার বলেছি, এভাবে তো ডিমান্ড নোট পাঠাতে পারেন না আমাদের বক্তব্য ছাড়া। আমরা মনে করছি, এই অডিটের কোনো ভিত্তি নেই, কারণ সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।”

“সার্ভিসটা বিটিসিএলকে দিয়েছে, আমি ভ্যাট দিলে বিটিসিএল ভ্যাটের চালান দেবে। বিটিসিএল চালান না দিলে কীভাবে টাকা দেব? বিটিসিএল যদি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন না করে তাহলে সে যত সেবা দেয় তা ভ্যাটের আওতামুক্ত, এটি নতুন কোনো ইস্যু নয়।”

বিটিআরসির দাবিকে ‘অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে এই রবি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে এসব বিষয়ে কমপ্লেইন দিয়েছি। আমরা বলেছি, প্রয়োজনে একটি কমিটি করেন বা অডিটর নিয়োগ করেন। আমরা ওয়ান অফ দা লার্জেস্ট ট্যাক্স পেয়ার। যদি ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে থাকি আপনারা (এনবিআর) ব্যবস্থা নিলে মেনে নেব।”

অমৃতবাজার/জয়