ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিড়ি শ্রমিকদের বুকের হাড় বেরিয়ে গেছে


রংপুর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০:২১ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার
বিড়ি শ্রমিকদের বুকের হাড় বেরিয়ে গেছে

দিনদিন বিড়ি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঠিকমতো না খেতে পারায় বিড়ি শ্রমিকদের বুকের হাড় বেরিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সি। গত বুধবার দুপুরে রংপুর টাউন হল চত্ত্বরে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত বিড়ি শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   

টিপু মুন্সি বলেন, আগামীতে বিড়ি শ্রমিকরা বেঁচে থাকবে নাকি মরে যাবে সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। রংপুরে ৬ লাখ বিড়ি শ্রমিক আছে। আমি বিগত ৯ বছরে সংসদে না হলেও ১০ বারের বেশি বিড়ির ওপর ট্যাক্স না বাড়াতে সরকারকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু অর্থমন্ত্রী প্রতি বাজেটে বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়েই চলেছেন। এর কারণ অর্থমন্ত্রীর এলাকায় কোনো বিড়ি শ্রমিক নেই। এজন্য বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে তার কোনো চিন্তা করতে হয়না। কিন্তু বিড়ি শ্রমিকদের নিয়েই আমাকে বসবাস করতে হয়। তাই অর্থমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিড়িশিল্প বন্ধ করে সিগারেট রাখা যাবে না। যদি সিগারেট থাকে তা হলে বিড়িও থাকবে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, অর্থমন্ত্রীর ভুল সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতিত্বের কারণে বিড়িশিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। বিড়ি শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই বিড়ির ওপর থেকে ট্যাক্স কমিয়ে বিড়ি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া বিড়ির শিল্পের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা বিড়ি শিল্পই। সুতরাং বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করা যাবেনা।

গবেষণা ও উন্নয়নকালেকটিভের (আরডিসি) সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন,  বিএটিবি দেশের জন্য কিছুই করেনি। বরং তারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী ২৫ লাখ মানুষকে হত্যা করতে বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করতে চান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীও বিড়ির ওপর ট্যাক্স কমাতে বলেছেন কিন্তু অর্থমন্ত্রী সে কথাও শুনছেন না। বিএটিবি যে পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন সেটা নিয়ে দুদককে কাজ করতে হবে। কারা এই ফাঁকির সঙ্গে যুক্ত তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা দুদকের কাজ।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিনউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙ্গালী, যুগ্ম  সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেন, সদস্য শামীম হোসেন, আবুল হাসনাত লাভলু, রংপুর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চৌধুরী প্রমুখ।

অমসৃতবাজার/ইকরামুল