ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এসডিজি অর্জনে আমরা সঠিক পথে এগুচ্ছি: ড. আতিউর রহমান


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
এসডিজি অর্জনে আমরা সঠিক পথে এগুচ্ছি: ড. আতিউর রহমান

‘এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ অতুলনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। আর ঐ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবহার করে আমরা এসডিজি অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’— বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। আজ (০৭ ডিসেম্বর ২০১৭) ঢাকায় ‘ইমপ্লিমেন্টিং এসডিজিস ইন বাংলাদেশ: ফ্রম একশন টু প্ল্যান’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ইউএন এফএও-এর সহায়তায় এই কর্মশালাটি আয়োজন করেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য এই কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল হায়দার, এফএও-এর এসিস্ট্যান্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. নূর এ. খোন্দকার, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থ বিভাগের ডেপুটি চিফ মনিরুল ইসলাম, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এম. আবু ইউসুফ কর্মশালাতে সভাপতিত্ব করেন।

ড. আতিউর বলেন যে, ১৯৭১ সালে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং প্রধানত কৃষিনির্ভর দেশ থেকে বাংলাদেশের আজকের দৃঢ় শিল্প ভিত্তির গতিশীল ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর। বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের জন্য টেকসই এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির হয়েছে। তিনি আরও বলেন- “রূপকল্প ২০২১ এবং দুটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (৬ষ্ঠ ও ৭ম)-র মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও সম্পদ-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।”

তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাল এবং এসডিজি অর্জনের সময়কালের প্রথম পাঁচ বছর একই। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বমোট ৩২ ট্রিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি খাতের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বিনিয়োগের শতকরা ৭৭ ভাগই আসবে ব্যক্তি খাত থেকে।

কার্যকরভাবে এসডিজি অর্জনের কৌশল নিয়ে আলোচনার সময় ড. আতিউর বলেন যে দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কৃষি খাতের উন্নয়ন বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক অন্তর্ভূক্তির উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে। তাঁর মতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধির এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উচ্চ আয়ের দেশ হতে হলে বাংলাদেশকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। যেমন: জিডিপির শতাংশ হিসেবে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে (৩০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ করতে হবে), আরও ডিজিটাইজেশন ও অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে, এবং জনশক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অমৃতবাজার/মাসুদ

 

Loading...