ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

স্বস্তি ফিরছে নিত্যপণ্যের বাজারে


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার
স্বস্তি ফিরছে নিত্যপণ্যের বাজারে

মৌসুমের শেষে অস্থির হওয়া পেঁয়াজের দাম সামান্য কমলেও সহনীয় হচ্ছে সবজির দাম। এছাড়া চালের দাম অনেক দিন ধরেই স্থিতিশীল আছে, আর মাছ, মাংস ও সবজীর দামও সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে স্বস্তি ফিরেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে।

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় ও স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ১৪টি মনিটরিং টিম কোনও কাজ করছে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ৩১ ডিসেম্বর টিমগুলোর মেয়াদ শেষ হবে। তাই এ মুহূর্তে কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয় আছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় বাজার এখন স্থিতিশীল। নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। সামনে বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।’

বাবুবাজার-বাদামতলী চাল আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘দেশে চালের মোকাম বলে খ্যাত উত্তরবঙ্গে প্রচণ্ড শীত পড়ছে। ফলে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া ঘন কুয়াশা পড়ায় ট্রাক চলাচল ব্যহত হচ্ছে। তাই এ সমস্যাগুলো কেটে গেলে চালের দাম আরো কমবে।’

কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে খুচরায় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ৮৮-৯০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ৯৫-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল ৫০-৫৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আর সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আটার দাম কেজিতে ৬ টাকা বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ১২০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। এছাড়া করলা ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকায় এবং পেঁপেসহ সব সবজির দামই ৫০ টাকার নিচে নেমেছে। সামনে সব ধরনের সবজির দাম আরো কমবে বলে আশা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকা ও বয়লার মুরগি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানিয়েছেন, সুযোগ বুঝে অতিবৃষ্টি, ঈদ ও পূজার ছুটি বা অন্য কোনও অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচ নষ্ট হয়ে গেলে দাম কিছুটা বাড়তেই পারে। তাই বলে ২০০ টাকা কেজি হবে কেন? একই কারণে নষ্ট হতে পারে সবজিও। তাই বলে করলার কেজি ১০০ টাকা কী করে হয়?

জানা গেছে, গত এক মাস আগে সবজির সরবরাহ কম থাকায় ২০ টাকা কেজি দরের আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এখন তা কমে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নতুন আলুর দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, বাজারে সব রকম পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। তাই দামও কিছুটা কমেছে। এখন আর কেউ সরবরাহ সংকটের কথা বলেন না।

অমৃতবাজার/জয়