ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

যশোরে এলজিইডি ঠিকাদারদের টেন্ডার বয়কট


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
যশোরে এলজিইডি ঠিকাদারদের টেন্ডার বয়কট

এলজিইডির দরপত্রে নির্মাণ সামগ্রীর দাম কমানোর প্রতিবাদে চলতি অর্থ বছরে যশোরে ৫১টি গ্রুপের প্রায় ৪৩ কোটি টাকার টেন্ডারে অংশ নেয়নি ঠিকাদাররা। নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য পুনঃনির্ধারণ না করলে ঠিকাদাররা টেন্ডার বয়কট অব্যাহত রাখাসহ কঠোর আন্দোলনে যাবে। শনিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এলজিইডি তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মীর জহুরুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এলজিইডি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দরপত্রের নির্মাণ সামগ্রীর যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা গত অর্থবছরের তুলনায় ৫/৭ শতাংশ কম। সরকারের অন্যান্য বিভাগ নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করলেও এলজিইডি কমিয়েছে। এলজিইডির কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্থ হবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলজিইডি নির্ধারিত মূল্য বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এক বর্গফুট (এসএফটি) পাথরের মূল্য ১৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজার দর ১৭৭ টাকা। এক পিস ইটের দাম ৮টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজার দর ৯টাকা। এক ড্রাম বিটুমিনের দাম ৭ হাজার ৫’শ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজার দর ৮ হাজার ৩’শ টাকা। এছাড়াও কার্পেটিং কাজে এক বর্গফুট মূল্য গত বছরের তুলনায় এক’শ টাকা কম। সব রকমের নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য চলতি অর্থ বছরে জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ৫১টি গ্রুপের প্রায় ৪৩ কোটি টাকার দরপত্রে ঠিকাদাররা অংশ নেয়। গত ৮ ও ১৬ নভেম্বর দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদাররা অংশ নেয়নি। নির্মাণ সামগ্রীর দাম পুনঃনির্ধারণ না হলে ঠিকাদাররা দরপত্র বর্জন করবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা মালিকদের সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট ইচ্ছামত ইটের দাম বৃদ্ধি করছে। এতে ঠিকাদাররা বিপাকে পড়ছে। ইটের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঠিকাদার লুৎফর রহমান, রেজাউল হক বিন্দু, আবু সাঈদ, মনিরুজ্জামান তপন, বাদল বিশ্বাস, আলী হায়দার মিলন, জিয়াউল ইসলাম, সাঈদুজ্জামান, শুভংকর বিশ্বাস, জামসেদ খান চঞ্চল, আকবর হোসেন, ইকবাল আহমেদ রবি, হুমায়ন কবীর, আব্দুর রাজ্জাক, আবদুর রহিম, আসাদুজ্জামান, আনিসুর দেওয়ান. মুকুল হোসেন, বিপ্লব সিংহ মুক্তি, ওলিয়ার রহমান, ফারুক হোসেন প্রমুখ।

অমৃতবাজার/প্রণব/মাসুদ

Loading...