ঢাকা, রোববার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৭:২২ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বছরগুলোতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডার সংমিশ্রণ ঘটানোর ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অর্থেই উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন এবং সচরাচর আর্থিক সেবার আওতায় বাইরে থাকা ভোক্তাদের কাছে সেবা পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীন চাহিদা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, এবং এটিই মন্দা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধান শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক)-এর উদ্যোগে আজ ১৪ নভেম্বর ২০১৭ কাঠমুণ্ডুতে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-তে “ডেভেলপমেন্টাল সেন্ট্রাল ব্যাংকিং: দি বাংলাদেশ স্টোরি” শিরোনামে একটি নিবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি একথা বলেন। নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চিরঞ্জীবি নেপাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত সাত-আট বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন পথ তৈরি ও উন্নয়ন এবং সামষ্টিক আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ব্যাপকভিত্তিক আর্থিক অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন উৎসাহিত করেছে বলে জানান ড. আতিউর।

তিনি বলেন- “আমরা বিভিন্ন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি এবং মনিটারি পলিসির মাধ্যমে কি করা সম্ভব আর কি সম্ভব নয়- সে বিষয়ে সচেতন থেকেছি।” বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভূক্তির উদ্যোগগুলোতে বিশেষ মনযোগ দেয়া হয়েছে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, এবং সবুজ অর্থায়নের ওপর। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন পল্লী অঞ্চলে যায়, প্রথাগত ও অপ্রথাগত আর্থিক সেবাদানকারিরা যেন একসঙ্গে কাজ করে, সর্বোপরি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াগুলোকে ডিজিটালকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ওপরও বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে।

“আমরা সাহস নিয়ে ও সুবিবেচনার ভিত্তিতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি এবং এখন তার প্রাথমিক সুফলগুলো দেখতে পাচ্ছি”- বলেন ড. আতিউর। এসব উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশর প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ব্যাপক হয়েছে, মুদ্রস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে প্রায় এক দশক জুড়ে, টাকার বিনিময় হারও তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানো গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির প্রধানতম শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে, এবং দারিদ্র্র্য ও অতিদারিদ্র্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এসেছে অসামান্য অর্জন।

তিনি বলেন যে এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুবিবেচনাভিত্তিক ভূমিকার কারণে এবং এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকেও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া গেছে। তবে তিনি একথাও বলেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন ভূমিকা ও উদ্যোগগুলোকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন যথাযথ পরিচর্যা এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে অব্যাহত উৎসাহ ও সহযোগিতা। কোন স্বার্থান্বেষী মহলকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সায়ত্ত্ব শাসন ও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার সুযোগ দেয়া যাবে না। এদেরকে সে সুযোগ দিলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যে অর্জন এসেছে তা হারিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে গভর্নর ড. চিরাঞ্জীবি নেপাল এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেতা হিসেবে ড. আতিউর রহমান দায়িত্ব পালনকালে যে ভূমিকা রেখেছেন তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন যে নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক দেশটির ব্যাংকগুলোর জন্য আর্থিক অন্তর্ভূক্তি নীতি তৈরি করার সময় ড. আতিউর রহমানের উদ্ভাবনিমূলক চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তিনি বহু সংখ্যক সুবিবেচনাভিত্তিক সামষ্টিক নীতি ও সৃজনশীল মনিটারি পলিসি প্রণয়ন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাইজেশন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য ড. আতিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অমৃতবাজার/মাসুদ

Loading...