ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

স্থলবন্দর বেনাপোলের উন্নয়নে ৯ দফা দাবি


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৭, রোববার | আপডেট: ০৭:৩৭ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৭, রোববার
স্থলবন্দর বেনাপোলের উন্নয়নে ৯ দফা দাবি

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত, বেনাপোল বন্দরকে পৃথক বঙ্গবন্ধু স্থলবন্দর গঠনসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নোম্যান্স ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ওপেন ইয়ার্ড ও শেড নির্মাণ, বন্দরের নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, পর্যাপ্ত ক্রেন ও ফর্কলিফটের ব্যবস্থা, নিরাপত্তার লক্ষ্যে বন্দর এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, কাস্টম হাউসে বিএসটিআই অফিস স্থাপন এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সময় রাত ১০টা পর্যন্তকরণ।

রোববার যশোর প্রেসক্লাবে যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক ও বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের স্থবিরতা নিরসনের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এতে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে বেনাপোল চেকপোস্ট পরিদর্শনে এসে এ বন্দরের উদ্বোধন করেন। সরকার প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে। অথচ ৩০ বছরেও উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। বেনাপোল বন্দরের ভয়াবহ যানজটের কারণে ভারতীয় অংশে ৫-৭ হাজার গাড়ি ২০-২৫ দিন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। এতে প্রতিদিন বাংলাদেশের আমদানিকারকদের ডেমারেজ হিসেবে গাড়িপ্রতি ২ হাজার ভারতীয় রুপি পরিশোধ করতে হচ্ছে। মালামাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের গুদাম রয়েছে। অথচ হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে এক থেকে ২ লক্ষ মেট্রিক টন। ভারত থেকে প্রতিদিন আমদানি করা শত শত নতুন ট্রাক চেসিস, বাস ও প্রাইভেট কার বন্দরের বাইরে রেলের খানাখন্দ জায়গায় অরক্ষিতভাবে রাখা হয়।

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ বলেন, এটা এতটাই বিধ্বস্ত যে, তা যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশের গাছের বড় বড় ডাল ঝুলে থাকা এবং গাছের শিকড়ের কারণে সড়কের মাঝখানে উচু হয়ে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বন্দর থেকে খালাসকৃত ও রফতানিমুখি পণ্য বোঝাই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও দূরপাল্লার পরিবহন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। তারা দাবি করেন, সড়কের মূল অংশের নিচে গাছের শিকড় অপসারণ না করে সড়ক নির্মাণ করা হলে সে অর্থ সম্পূর্ণ পানিতে যাবে। প্রতিদিন ৫ শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বৃটিশ আমলে ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর স্থাপিত ব্রিজটি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সাথে আমড়াখালীতে চেকপোস্ট বসিয়ে বিজিবি যা করে, তা ন্যাক্কারজনক। বৈধ মালামাল আটকে তারা যা করে, তার কোনো অধিকার তাদের নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সাবেক সভাপতি শামসুর রহমান, বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, সহসভাপতি নূরুজ্জামান ব্যবসায়ীনেতা মহসিন মিলন, জামাল হোসেন প্রমুখ।

অমৃতবাজার/প্রণব/মিঠু

Loading...