ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পাবনায় পাটের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে সোনালী হাসি


শাহীন রহমান, পাবনা

প্রকাশিত: ০৭:৩০ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার
পাবনায় পাটের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে সোনালী হাসি

দিন যত যাচ্ছে ততই পাবনার কৃষকের মাঝে বাড়ছে পাট আবাদের আগ্রহ। পাটের ফলন ভাল ও দামও আশানুরুপ পাওয়ায় কৃষকের মাঝে এই আগ্রহ। গত তিন বছরের চেয়ে এবছর জেলায় সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। এবার পাটের বাম্পার ফলন পেয়ে সোনালী হাসি কৃষকের মুখে।

ইতোমধ্যে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে পাট কেটে পানিতে জাগ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছর এই জেলায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও হয়েছে ভালো। গত কয়েক বছরের মতো এবারও তারা ভালো দামের আশায় আছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পাবনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ৯টি উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৩৬ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৮ বেল পাট। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ৩৮ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের বিপরীতে পাট উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৮ হাজার ৪০ বেল। ২০১৬ সালে আবাদ হয়েছিল ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে। সে বছর উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার বেল। চলতি বছর আবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ হাজার ৭৫ হেক্টরে পৌঁছেছে। পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ২০০ বেল। এর নতুন জাত হিসেবে রয়েছে ভারতের ভিআরও-৫২৪ এবং বাংলাদেশের ৯৮৯৭ জাতের পাট। এ ছাড়া দেশি ১৫৪ জাতের তোষা পাটও আবাদ হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সদর ও আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ পাটক্ষেত। পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক, পাবনা-সুজানগর সড়ক, পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক ও টেবুনিয়া-চাটমোহর সড়কের দু’পাশে মাঠজুড়ে পাটক্ষেত। ক্ষেত থেকে কৃষকেরা পাট কাটছেন। কোথাও মাঠ থেকে কাটা পাট গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও পাট জাগ দিতে কৃষকের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামের চাষি আলাউদ্দিন হোসেন এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি অমৃতবাজার পত্রিকাকে বলেন, তিন বছর আগেও পাটের আবাদ করে চাষিরা লোকসানে পড়েছিলেন। তাই তারা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছিলেন। সম্প্রতি এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে চাষিরা খুব সহজে ও ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারছেন। তার জমিতে বিঘাপ্রতি ১০ মণ পাট উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মালিগাছা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পাটচাষি নজরুল ইসলাম অমৃতবাজার পত্রিকাকে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে চলতি বছর ধান, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু ফসলে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা পাটের দিকে ঝুঁকছিলেন। এতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও ভালো। ঠিকমতো পাট ঘরে তোলা গেলে আগের লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে।

মালঞ্চি গ্রামের গহের উদ্দিন অমৃতবাজার পত্রিকাকে বলেন, ‘ইবার ভালো পাট হয়ছে। তাই সগলেই খুশি। এহন দামডা ভালো পালিই হয়।’ সদর উপজেলার আতাইকুলা হাটের পাইকারি পাট ব্যবসায়ী মো. আবদুল্লাহ বলেন, মিল-কারখানায় এবার পাটের চাহিদা বেশি। চাষিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, পাবনায় কাঁচা পাট ও পাটখড়ি প্রক্রিয়াজাতের নতুন নতুন কারখানা তৈরি হয়েছে। এতে বিপণন সহজ হচ্ছে। চাষিরা পাট উৎপাদন করে দুই দিক থেকে অর্থ পাচ্ছেন। পাটে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে জেলায় পাটের আবাদ বাড়ছে। বিপণনের এই মাধ্যমগুলো ধরে রাখা গেলে সোনালি আঁশ পাট আবারও দেশের জন্য সোনালি বার্তা বয়ে আনবে।

অমৃতবাজার/শাহীন/রেজওয়ান

Loading...