ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৭ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে ছয় সিগারেটে ক্ষতিকর ভারি ধাতু পাওয়া গেছে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৩ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার | আপডেট: ০৯:৫৪ এএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
যে ছয় সিগারেটে ক্ষতিকর ভারি ধাতু পাওয়া গেছে

ছয়টি ব্র্যান্ডের সিগারেটে ক্ষতিকর ভারি ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিভাবে তামাকে ভারি ধাতুর বিষক্রিয়া তৈরি হলো- এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপত্তা খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

জর্দা, খয়ের আর গুলের পর এবার বাংলাদেশ নিরাপত্তা খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবার দেশে উৎপাদিত সিগারেট ব্র্যান্ড বেনসন অ্যান্ড হেজেস, গোল্ড লিফে ভারি ধাতুর উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে।

এসব ভারি ধাতু শুধু ধূমপায়ীদের জন্যেই ক্ষতিকর তা নয়, এর কারণে পরোক্ষ ধূমপায়ী বা যারা ধূমপায়ী ব্যক্তির আশেপাশে বিচরণ করেন তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রাও বাড়ে।

নিরাপত্তা খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) উৎপাদিত ডার্বি, হলিউড, স্টার, গোল্ডলিফ ও বেনসন এবং জাপান টোব্যাকোর নেভি ব্র্যান্ডের সিগারেট সংগ্রহ করে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের অ্যানালাইটিক্যাল কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

গত ১৫ জানুয়ারি ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট তৈরি করেন ওই ল্যাবের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কোয়ালিটি ম্যানেজার ড. শামশাদ বেগম কোরেশি।

ওই পরীক্ষায় সব কয়টি সিগারেটের তামাকেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী সীসা, ক্যাডমিয়াম এবং ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মূলত দেশে উৎপাদিত তামাক পাতায় এসব ভারি ধাতুর উপস্থিতি থাকায় তা দিয়ে উৎপাদিত সিগারেটেও এসব ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহাবুব কবির স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে আলোচিত ছয়টি ব্র্যান্ডের সিগারেটের তামাকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ ভারি ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এসব কথা জানিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এখন মন্ত্রণালয়কে সিগারেট ব্রান্ডগুলো স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা নির্ণয় করা এবং সেই অনুসারে জন সচেতনতা সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে, কর্তৃপক্ষ কিভাবে তামাকে ভারি ধাতুর বিষক্রিয়া তৈরি হল তা তদন্তের আহ্বান জানায়।

খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তিনটি ল্যাবটেরিতে তামাক পরীক্ষা করে। এগুলো হল- বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, পরমাণু শক্তি কমিশন এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাব। তিনটি পরীক্ষাগারই ভারি ধাতুর উপস্থিতি নিশ্চিত করে।

পরীক্ষাগার প্রতিবেদন অনুসারে, বহুল প্রচলিত ছয়টি ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি তামাকে শূন্য দশমিক ৪৯ থেকে ১০০ দশমিক ৯৫ গ্রাম সীসা, শূন্য দশমিক ৪১ থেকে এক দশমিক ৩৭ গ্রাম ক্যাডমিয়াম এবং শূন্য দশমিক ৮২ গ্রাম থেকে ১ দশমিক ৪৯ গ্রাম ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যখাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিগারেটের তামাকে ভারি ধাতু থাকলে তা ক্যান্সারসহ হৃদপিণ্ড এবং যকৃতের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকেন পরোক্ষ ধূমপায়ীরা।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, একটি সিগারেট তৈরিতে প্রায় ৪ হাজার ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে কিছু কিছু রাসায়নিক সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। সিগারেটের এসব ক্ষতি মোকাবেলায় এখনো আমাদের পর্যাপ্ত তৎপরতা নেই, এর মধ্যেই যদি তামাকে সীসা, ক্রোমিয়ামসহ অন্যান্য ভারি ধাতু পাওয়া যায়, তবে তা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বাড়াবে।