ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাত্রাতিরিক্ত অটোরিক্সায় অতিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার | আপডেট: ০৪:২৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
মাত্রাতিরিক্ত অটোরিক্সায় অতিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী ছবি- মাত্রাতিরিক্ত অটোরিক্সায় অতিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী

বর্তমানে যেনো অটোরিকশার শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। প্রতিদিনই শহরে সংখ্যা বাড়ছে লাইসেন্সবিহীন এই ব্যাটারীচালিত যানটির। পৌর কর্তৃপক্ষের এতে কোন নজরদারি নেই। লাইসেন্সবিহীন এই অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরবাসীর বার বার দাবি জানিয়ে আসলেও বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত।

এদিকে অটোরিকশা বেপরোয়া ভাবে চলাচলের জন্য প্রতিদিন শহরে ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। শহরে অটোরিকশার কোন পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় রাস্তার যেখানে সেখানে দখল করেই পার্কিং করা হয় অটোরিকশা। এতে করে সব সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন রাস্তায় চলাচল করে। এসব অটোরিকশা বেশী ভাগ চালকই হচ্ছে অদক্ষ শিশু ও কিশোর। এর ফলে রাস্তায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে জনসাধারণে দূর্ভোগ লাঘবের জন্য ২০০ অটোরিকশা অনুমোদন করে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমোদনকারী অটোরিকশাগুলোর সাথে অবৈধভাবে নেমেছে আরও কয়েক হাজার অটোরিকশা। আর এ গাড়িগুলো দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে শহরের প্রধান ব্যস্ততম সড়ক কাউতলী থেকে মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। সেই সাথে শহরের আস-পাশের সড়কগুলোও রয়েছে এই অবৈধ অটোরিকশার দখলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের রাস্তায় বর্তমানে নিবন্ধনহীন সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। এতে করে প্রতিদিন শহরের ভিতর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই ২০১৮ সালে চালক ও অটোরিকশাগুলোকে আবেদনপত্রের মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য আহবান করে পৌরসভা। কিন্তু এসব কিছু তোয়াক্কা না করে বিরামহীনভাবে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ অটোরিকশাগুলো।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরে ব্যস্ততম সড়ক টি এ রোডের ঘোড়াপট্টি জোড়া ব্রীজের উপর, পৌর এলাকার কাউতলী জোড়া ব্রীজের উপর এলোপাথারীভাবে অটোরিকশা পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এই দুইটি ব্রীজই তাদের অঘোষিত স্ট্যান্ড। এছাড়াও শহরের মৌড়াইল ডাকবাংলোর মোড় , রেলগেইট, জেলা পরিষদ মার্কেট, কালিবাড়ি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপর এলোপাথারীভাবে অটোরিকশা পার্কিং করে রাখা হয়েছে।

শহরের মেড্ডা এলাকার ব্যবসায়ী রমজান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ এই অটোরিকশা যন্ত্রনায় এখন শহরে স্বাচ্ছন্দের সাথে চলাফেরা করতে পারি না। শহরের এই অটোরিকশাগুলো যত্রতত্র থামিয়ে একটি যানজটের সৃষ্টি করে। অটোরিকশাগুলো আমাদের দোকানের সামনে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যায়। ফলে আমাদের খরিদদারদের দোকানো আসা-যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রায় সময় তাদের অনিরাপদ অটোরিকশা ঠিকভাবে ব্রেক না করার কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বিগত অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি কিন্তু কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।

এদিকে শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবু শাকিল ভূইয়া (দিপু) বলেন, কাজীপাড়া ভিরের এই রাস্তাটি অনেকটাই ছোট। ভাল করে ২-টি রিক্সা এপাশ- ওপাশ দিয়ে চলাচল করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। গত কয়েক বছর আগেই এই রাস্তাটি দিয়ে পথচারীরা খুব সহজে চলাচল করতে পারত। কিন্তু এখন এই অবৈধ অটোরিকশাগুলোর কারণে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা সহজে চলাচল করতে পারে না এমনকি প্রায় সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে পড়ে এই রাস্তায়। তিনি শহরের অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের ব্যবসায়ী ইমরান খান বলেন, যত্রতত্র ভাবে এই অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীরা উঠা-নামা করে। আর এই অশৃংঙ্খলবাবে চলাচল করার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শহরের ভিতর এত বড় ওভারব্রীজ থাকলে কেউই তার উপর যাতায়াত করতে চাই না। তাই দুপাশের ছোট রাস্তাটি দিয়ে আসা যাওয়া করার কারণে পথচারীদেরও চলাচল করতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। রাস্তার মোড়গুলোতে অবৈধ স্ট্যান্ডে সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া রাস্তার মাঝখানেই অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের নামানো ও উঠানো হয়। এমনকি ১২/১৩ বছরের শিশুদেরও চালকের আসনে দেখা যায়।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ-সভাপতি আবদুন নুর বলেন, অবৈধ অটোরিকশা চলাচলের কারনে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া অবৈধ অটোরিকশা ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ বিদ্যুৎ বিভাগকেও অনেক লোকসান পোহাতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ব্রাক্ষণবাড়িয়া সড়ক গুলোতে কমবসীর অদক্ষ অটোরিকশার চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটেছে সড়ক মহাসড়কের দুর্ঘটনা। দেশের অনেক স্থানে থেকে অটোরিকশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। তবে ট্রাফিক পুলিশের যানজট নিরসনে আরো সোচ্চার হতে হবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির বলেন, শহরের বিপুল সংখ্যক অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, শহরের ১২টি ওয়ার্ডে অটোরিকশাগুলোকে ভাগ করে দেয়া হবে। প্রতিটি রাস্তায় চলাচলরত অটোরিকশা জন্য আলাদা রঙ থাকবে। এক রাস্তার অটোরিকশা অন্য রাস্তায় চলাচল করতে দেয়া হবেনা। এছাড়া শহরের বাইরের অটোরিকশাগুলো যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার ট্রাফিক পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জানান, আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি তবে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব না।

অমৃতবাজার/এমআর