ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এনআরসি ও সিএএ ইস্যুতে ভারতের উপর নজর রাখছে বাংলাদেশ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ১০:২৮ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
এনআরসি ও সিএএ ইস্যুতে ভারতের উপর নজর রাখছে বাংলাদেশ ছবি: অমৃতবাজার

ভারতের নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ইস্যুকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করলেও ইস্যু দুটির ব্যাপারে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি।

একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের এক প্রশ্নের জবাবে রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, `ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। দেশটি জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনআরসি) পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশ এনআরসি ইস্যুটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। তারপরও বাংলাদেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।`

ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধু উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। ভারতের সাথে আমাদের প্রতিবেশিসুলভ সুসম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।

মোদী সরকারের এনআরসি বাংলাদেশের উপর কোন খারাপ প্রভাব ফেলবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, `সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রদেশে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনআরসি) পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই বিলটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিতর্ককে ভারতের ঘরোয়া রাজনীতির অংশ মনে করে। তাছাড়া এই ইস্যুতে বাংলদেশের ওপর কোনো অযাচিত প্রভাব পড়বে না; সে নিশ্চয়তা ভারতের সর্বোচ্চ মহল থেকে দেওয়া হয়েছে।’

এসময় ভারতে বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেশকিছু বছর ধরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে উত্তরোত্তর জিডিপি বৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশি কোনো নাগরিককের ভারতে অবৈধ অভিবাসনের যৌক্তিকতা আছে বলে প্রতীয়মান হয় না।’

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘ভারত সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার সময় প্রতিবেশী বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সাথে তাদের দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস, সৌহার্দ্য ও বোঝাপড়ার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেবে। তারপরও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’

সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে অবৈধ গমনাগমন, চোরাচালান প্রতিরোধসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সব সময় সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তারা সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধসহ যেকোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এছাড়াও সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে স্থানীয় জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজিবি কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অমৃতবাজার/এসএইচএম