ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতুতে ২২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
পদ্মা সেতুতে ২২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩৩০০ মিটার

 

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে ২২তম স্প্যান। এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৩ হাজার ৩০০ মিটার। সেতুর মাওয়া প্রান্তের ৫ ও ৬ নম্বর পিয়ারের উপর বসানো হলো এই ২২তম স্প্যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ইয়ার্ড থেকে রওনা হওয়ার জন্য পজিশনিং করার মধ্য এই স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়ার শুরু হয়। পরে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ স্প্যান নিয়ে রওনা হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানিয়েছিলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি চাইনিজ নিউ ইয়ার থাকায় নির্ধারিত সময়ের দু’দিন আগেই এটি খুঁটিতে তোলা হচ্ছে। কারণ পদ্মা সেতুতে অনেক চীনা প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছেন।

তাই আবহাওয়াসহ সবকিছু অনুকূলে থাকলে বৃহস্পতিবাররই স্প্যানটি পিয়ারে স্থাপন হবে। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে স্প্যানটি বসে গেলে সেতুর ৩ হাজার ৩০০ মিটার দৃশ্যমান হবে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এই সেতুতে থাকবে মোট ৪২টি পিয়ার। এর মধ্যে ৩৬টি পিয়ার সম্পন্ন হয়েছে। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে। যার ২১টি বসে গেছে। আগামী জুলাইয়ে সব স্প্যান বসে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মূল সেতু নির্মাণ করছে চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। নদী শাসনের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

এই সেতুর নির্মাণ কাজ তদারক করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিডিপি দেড় থেকে দুই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পদ্মা বহুমুখী মূল সেতুর ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটি। এছাড়া এই প্রকল্পের পুরো কাজের ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে এপ্রোচ রোডের কাজ-৯১ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে এপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২)-১০০ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণ কাজ ৮৫.৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং নদী শাসনের কাজ ৬৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.৫০শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী জুলাইয়ে সব স্প্যান বসে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম স্প্যানটি বসে ১৪ জানুয়ারি। এরআগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান ও ১৮ ডিসেম্বর বসানো হয় ১৯তম স্প্যান এবং ৩০ ডিসেম্বর বলে ২০তম স্প্যানটি।

সেতুর রোডওয়ে স্ল্যাব ও রেলওয়ে স্ল্যাবসহ অন্যান্য কাজ সিডিউল অনুযায়ী চলছে।

দেশের সর্ববৃহৎ সেতুটির মূল অংশের নির্মাণকাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।

অমৃতবাজার/এএস