ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভারতের `সিএএ`র উদ্দেশ্য বুঝতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | আপডেট: ০৭:৫১ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
ভারতের `সিএএ`র উদ্দেশ্য বুঝতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের(সিএএ) উদ্দেশ্য কী তা বুঝতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইয়ে গালফ নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না (ভারত সরকার) কেন এমনটা করলো। এটা প্রয়োজন ছিল না।

ওই আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে ভারতে পালিয়ে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু, মুসলিমদের নাগরিকত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে আইনে। ভারতের সংসদে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করা হয়। ইতোমধ্যেই ভারতে থাকা মুসলিমরা দেশছাড়া হবার আশঙ্কা করছেন। কারণ, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজনকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু শুধু এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র মুসলিমদের ব্যাপারটি।

১৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের বাংলাদেশে ১০.৭ শতাংশ হিন্দু এবং ০.৬ শতাংশ বৌদ্ধ রয়েছে। এবং ধর্মীয় নীপিড়নের কারণে ভারতে তাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া ভারত থেকেও বাংলাদেশে কারও পালিয়ে আসার ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, `না, ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশে আসেনি। কিন্তু ভারতের ভেতরই বহু মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।`

গত মাসে সিএএ কার্যকর এবং পুরো ভারতে এনআরসি করার ঘোষণার পর দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যেসব ভারতীয় মুসলিম তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হবেন, তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করবে ভারত সরকার। এর আগেও ২০১৭ সালে ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও প্রথমে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল মিয়ানমার সরকার।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটা একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ সবসময়ই বলেছে সিএএ এবং এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকার, বারবারই বলেছে এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরে আমার নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।

অমৃতবাজার/এসএইচএম