ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

`তামাকমুক্ত বাংলাদেশ` গড়তে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রোববার
`তামাকমুক্ত বাংলাদেশ` গড়তে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ফাইল ছবি

দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ প্রয়োজনীয় সহায়তায় `হসপিটালিটি সেক্টরে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) কৌশলপত্র` প্রনয়ণ করেছে মন্ত্রণালয়।

২০১৭ এর ফলাফলে দেখা গেছে, তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন থাকা সত্তে¡ও শতভাগ ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস রেস্তোরাঁয় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে জনসাধারনকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের।

এ বিষয়ে বেসমারিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিমান) ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ফোকাল সাবেরা আক্তার বলেন, আইনের মাধ্যমে আমাদের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি, তারপরও হসপিটালিটি সেক্টরের আওতায় বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও ট্যুরিজমের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসাথে কাজ করার জন্যই বেসমরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হসপিটালিটি সেক্টর কৌশলপত্র প্রনয়ণ করে।

এই কৌশলপত্রে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আওতায় আসবে রেস্টুরেন্ট, হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ, রিসোর্ট, পর্যটন কেন্দ্র, বার, পিকনিক স্পট, থিম পার্ক, পার্টি সেন্টার, প্রেক্ষাগৃহ, থিয়েটার হল, প্রমোদতরীসহ এ সেক্টরে পরিচালিত সকল প্রকার যান্ত্রিক যানবাহন এবং সরকার/ স্থানীয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থান/ প্রতিষ্ঠান।

কৌশলপত্রে আরও আছে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ এ যথাযথ বাস্তবায়নে সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ধূমপান থেকে বিরত রাখার জন্য দৃশ্যমান স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা; ধূমপানে সহায়ক দ্রব্যাদি যেমন-ছাইদানী ও লাইটার না রাখা; তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারজনিত কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের এবং প্রতিকার প্রাপ্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে; সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লাইসেন্স/ পারমিট প্রদান ও নবায়ন করার ক্ষেত্রে লাইসেন্স/ পারমিট প্রদান ও নবায়ণকারী কর্তৃপক্ষ আইন মানার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করবে; আইনের বাস্তবায়নের জন্য স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান একটি মনিটরিং টিম গঠন করবে এবং মনিটরিং এর কার্যক্রমের প্রতিবেদন যথাযথ কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করবে; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মনিটরিং করার জন্য অত্র মন্ত্রণালয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ ফোকাল পার্সনের অধীনে একটি মনিটরিং টিম গঠন করবে।

মনিটরিং টিম নিয়ে বেসমারিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বিমান) ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সাবেরা আক্তার বলেন, বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত তবে মনিটরিং টিম। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রতিনিধি , ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিনিধি ও হোটেল- মোটেলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে আমরা মনিটরিং টিম গঠন করা হবে, তা অতি শীঘ্রই গঠিত হবে।

এ বিষয়ে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগাম অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, `তামাক নিয়ন্ত্রণে হসপিটালিটি গাইডলাইন একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। বিশেষ করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত করা এবং বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এ গাইডলাইন গুরুত্বর্পূণ ভ‚মিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান ও পাবলিক প্লেসকে তামাকমুক্ত রাখতে অনুরূপ গাইডলাইন করতে পারে। আমরা এ ধরণের একটি ইতিবাচব গাইডলাইনের জন্য সংশ্লিস্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।`

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৌশলপত্রটি গঠনে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, তামাক একটি ক্ষতিকর পণ্য। বিগত বছরগুলোতে রেস্তোরাঁ কেন্দ্রিক বেশকিছু তামাকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে রেস্তোরাঁয় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার হার ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাই এই সেক্টরে কার্যক্রমকে আরোও বেগবান করতে প্রয়োজনীয়তা অর্ন্তভুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসা শিশু, নারী ও এই সেক্টরের কর্মকর্তা, শ্রমিক, কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে “হসপিটালিটি সেক্টরে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার(নিয়ন্ত্রণ) কৌশলপত্র” প্রনয়ণে সহায়তা করে।

অমৃতবাজার/এসএইচএম