ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জব্দ হতে যাচ্ছে জি কে শামীমের ১৯৪ ব্যাংক একাউন্ট


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৭:৪৬ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
জব্দ হতে যাচ্ছে জি কে শামীমের ১৯৪ ব্যাংক একাউন্ট

জব্দ হতে যাচ্ছে আলোচিত যুবলীগ নেতা ও বিত‌র্কিত ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীমের ব্যক্তিগত ও ব্যবসা‌য়িক প্র‌তিষ্ঠা‌নের ১৯৪ টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। জি কে শামীমের বিরুদ্ধে চলমান মানি লন্ডারিং মামলায় সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ একাউন্টগুলো জব্দের আদেশ দেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ অ্যাকাউন্টগু‌লো জ‌ব্দের জন্য আবেদন করলে এই নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলা তদন্তকালে জানা যায়, জি‌ কে শামীম ও তার পরিবার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ পাচারের উদ্দেশে মজুদ রেখেছেন। এছাড়াও আসামি যেকোনো সময় মজুদকৃত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অপরাধলব্ধ আয় সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। আসামির অপরাধলব্ধ আয় অবরুদ্ধ না হলে ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে আইনের উদ্দেশ্যে ব্যহত হতে পারে। ওই হিসাবগুলোতে কয়েকশ’ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানা যায়।মামলা তদন্তকালে জানা যায়, জি‌ কে শামীম ও তার পরিবার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ পাচারের উদ্দেশে মজুদ রেখেছে। এছাড়াও আসামি যেকোনো সময় মজুদকৃত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অপরাধলব্ধ আয় সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। আসামির অপরাধলব্ধ আয় অবরুদ্ধ না হলে ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে আইনের উদ্দেশ্যে ব্যহত হতে পারে। ওই হিসাবগুলোতে কয়েকশ’ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানা যায়।

মামলার আবেদনে বলা হয়, এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে নিজ নামে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রকাশ্য বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় বাস টার্মিনাল, গরুর হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণসহ চাঁদাবাজি করে স্ব-নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বৈভবের মালিক হয়েছেন।

এছাড়া তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে দেশে-বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরসহ নিজের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা গচ্ছিত রেখেছেন। তি‌নি র‌্যাবের অভিযানে এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার ১০টি এফডিআর, ৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও চেক বইসহ গ্রেফতার হন। মামলার তদন্তে আসামিদের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা পয়সার লেনদেন পরিলক্ষিত হয়।

গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে নিজ কার্যালয় থেকে জি কে শামীমসহ সাত দেহরক্ষীকে আটক ক‌রে র‌্যাব। এ সময় নগদ এক কোটি ৮১ লাখ টাকা, নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুর ডলার, জি কে শামীমের মায়ের নামে ট্রাস্ট ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার করে চারটি, ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক মহাখালী শাখায় ১০ কোটি টাকা করে চারটি এফডিআর এবং শামীমের নামীয় ট্রাস্ট ব্যাংক কেরানীগঞ্জ শাখায় ২৫ কোটি টাকার একটি এফডিআর জব্দ করা হয়। এরপর গুলশ‌ান থানায় মা‌নি লন্ডা‌রিং আই‌নে তার না‌মে মামলা হয়।

অমৃতবাজার/এসএইচএম