ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুষ্ঠ নির্মূলে প্রতিরোধ সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
কুষ্ঠ নির্মূলে প্রতিরোধ সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

 

কুষ্ঠরোগ নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারও যদি কুষ্ঠ রোগ দেখা যায়, তাকে চাকরিচ্যূত করা যাবে না, তাকে সমাজ থেকে দূর করা যাবে না, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে কুষ্ঠরোগী চাকরি করবে সেখানে তাদেরই দায়িত্ব থাকবে তিনি যেন সুচিকিৎসা পায়, তিনি যেন সুস্থ হতে পারে, সে যেন পঙ্গুত্ব বরণ না করে সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখতে হবে।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা সার্ভে করে দেখেছি, এ রোগটা সব এলাকায় সমান না। কিছু কিছু এলাকায় এ রোগটা বেশি দেখা যায়। তাই যেসব এলাকায় এ রোগটা বেশি দেখা যায়, সেসব এলাকায় আমাদের আরও বেশি দৃষ্টি দিতে হবে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং মানুষের থাকা-খাওয়া সব দিকেই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৮৯৮ সালে ব্রিটেনের একটা আইন ছিল, সেই আইনে বলা ছিল- কুষ্ঠ রোগীদেরকে বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। কুষ্ঠ রোগীদের আশ্রয় কেন্দ্রে বন্দি করে রাখা হত। সেই আইনটা আমাদের দেশেও প্রচলিত ছিল। আমরা সেই আইন পরিবর্তন করে দিয়েছি।

২০১১ সালে সেই আইন পরিবর্তন করে দিয়েছি যে, তাদেরকে ওইভাবে কোনও বন্দিখানায় রাখার বিষয় নয়। তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, তারা সমাজেরই একজন। আর সেই হিসেবেই তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। তারা যেন সুষ্ঠু হতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসঙ্গে নতুন করে অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। আর আর আমরা সেভাবেই দৃষ্টি দিচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা চাই যে, আমাদের দেশটা উন্নত হোক, সমৃদ্ধশালী হোক সেইসঙ্গে আমাদের দেশের মানুষগুলো সুন্দরভাবে বাঁচুক। যেমন আমাদের প্রতিবন্ধীদের অধিকারও প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি। তেমনি কুষ্ঠ রোগীদেরও মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে, বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি কুষ্ঠ রোগীদেরকে কাছ থেকে দেখেছি, তাদের কাছে গিয়েছি, নিজের হাতে তাদেরকে খাবার দিয়েছি, টাকা দিয়েছি। আমার কোনও অসুবিধা হয়নি। আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছে, তাদেরও কোনও অসুবিধা হয়নি। এত কাছে যদি না আসত, তবে আমি তাদের সম্পর্কে জানতেই পারতাম না। কাজেই এভাবে যদি সমাজের সবাই একটু দায়িত্ব নেয় এবং তাদেরকেও সমাজে অবস্থানের অধিকার দেওয়া হয়, তবে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের দেশ থেকে আমরা পোলিও দূর করেছি, হাম দূর করেছি। এরকম বিভিন্ন রোগ যেগুলো এক সময় আমাদের জন্য বিরাট একটা সমস্যা ছিল, সেগুলো আমরা দূর করতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই বাংলাদেশ পারবে না- এটা ঠিক না। আমি মনে করি, আমরা পারবো এবং আমাদের যেটা দরকার সেটার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছি।

আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। কারণ জাতির পিতা সবসময় চেয়েছিলেন তৃণমূল মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে। এর জন্য তিনি কিছু উদ্যোগও নিয়েছিলেন, কিছু ইউনিয়ন হাসপাতালও করেছিলেন। কিন্তু এরপর তো তিনি আর কাজ করতে পারেননি। তাই ১৯৯৬ সালে যখন আমি সরকারে আসি, তখন এই কমিউনিটি ক্লিনিক করার ধারণাটা তৈরি হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, এক সময় মনে করা হত এটা একটা অভিশাপ। কিন্তু আসলে এটা কোনও অভিশাপ না। এটা জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যমে হয়। তাই কোন জীবাণু সংক্রমণের মাধ্যমে হয়, তা গবেষণা করে বের করে সেই জীবাণুটা যেন বিস্তার করতে না পারে এবং আমাদের দেশ থেকে এটা যেন সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়, তার পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে।

এজন্য আমাদের গবেষণাও একান্তভাবে প্রয়োজন। এখন আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণা হচ্ছে, ওষুধ বের হচ্ছে। আমাদের দেশেও আমরা এটা করতে পারি। তাতে আমরা নিজেরাই আমাদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো; পরনির্ভরশীল হতে হবে না। আর আমরা সেটাই চাই।

অমৃতবাজার/এএস