ঢাকা, রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তাদের মুখে শোভা পায় না: প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তাদের মুখে শোভা পায় না: প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজকে যখন বিএনপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন বা নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে- তাদের আমি এটাই মনে করিয়ে দিতে চাই যে তাদের নেতা জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ/না ভোট এবং তার যে নির্বাচন অথবা ৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

কেমন নির্বাচন তারা করেছিল। সেখানে কোথায় ভোটার, কোথায় নির্বাচন। জনগণ তো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। তখন কথাই ছিল ১০টা হুণ্ডা, ২০টা গুণ্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। ঠিক তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল জেনারেল এরশাদ।’

তিনি বলেন, ‘সেই অবস্থা আমরা পরে আবার দেখি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। খালেদা জিয়াও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। কাজেই ১৫ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচন ৯৬ সালে যারা করেছিল, তাদের অন্তত নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা তাদের মুখে শোভা পায় না।’

আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে তারা সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। একদিকে হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম ছিল। সরকারের মধ্যে আরেক সরকার ছিল হওয়া ভবন। তাদের অত্যাচারের স্টিম রোলার সবার ওপর চলেছে, হওয়া ভবন খুলে লুটপাট করা হয়েছে।’  

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল মানুষের মুক্তির জন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের দিকে তাকান নাই, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।

জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে একটা আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতাকে সপরিবারের হত্যা করার পর হত্যাকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়েছিল। জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক পদক্ষেপ তখন জিয়া সরকার নিয়েছিল। তখন দেশ রক্ষার্থে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো ভূমিকা রেখেছে।’

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ হত্যার বিচার না করে তার উপরন্তু হত্যাকারীদের বাঁচাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। খুনিদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল। জিয়া সরকারের পর এরশাদও হত্যাকারীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। একই পথে হেঁটেছেন খালেদা জিয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থেকে সবার ওপর নির্যাতন করেছে। এতিমের জন্য টাকা এসেছে কিন্তু সে টাকা খালেদা জিয়ার অ্যাকাউন্টে। এতিমদের টাকা এতিমদের ভাগ্যে জোটে নাই। খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়।

এটা সরাসরি দুর্নীতির মামলা। আমরা কোনো রাজনৈতিক মামলা দেইনি। তাদের নিজেদের তৈরি লোকেরাই সে সময় (২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার) দুর্নীতির মামলা দিয়েছিল। তারা আমাদের এসএম কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছিল। দেশের সব স্থানে তারা বোমা হামলা করেছিল। সে সময় দেশকে জঙ্গিবাদের আস্তানায় পরিণত করেছিল।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জন্যই তার নেতাকর্মীরা দেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে, ভাংচুর করছে। তাদের কর্মকাণ্ডই এমন। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, তারা ক্ষমতায় থাকা কালে আমেরিকার এফবিআই’র (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) লোকদের টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছিল। জয়কে কিডন্যাপ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্রও করেছিল তারা।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের উপকার হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের জন্য কাজ করে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে। আমাদের লক্ষ্যই হলো মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। আমরা দেশকে উন্নত করতে কাজ করছি।’

এ সময় তিনি তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরেন দেশের সরকারপ্রধান।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এ দিন বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নাম ঘোষণা করা হবে। মহানগরীর সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কাউন্সিলর এবং প্রায় তিন হাজার ডেলিগেট সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নগরীর দুই শাখার নবনির্বাচিত নেতাদের নাম ঘোষণা করবেন সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

অমৃতবাজার/এএস