ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | আপডেট: ০১:৪৫ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 

কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলের জন্য কুড়িগ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নতুন কোচ দেওয়া প্রতিস্থাপিত রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ পরবর্তী যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আমরা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ শুরু করি। দেশের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সারা বংলাদেশে রেল যোগাযোগের একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমতাসীনরা রেলকে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কোনও কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল, কোনটা লাভবান না, সেটা বন্ধ করে দাও।

ঠিক সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রেল যোগাযোগটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনেকগুলো রেল লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়, অনেকগুলো রেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের দেশের জন্য এটা ছিল একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য রেল পথ বেছে নেয়। একটা দেশে রেলপথ, নৌপথ, সড়কপথ সবই প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা সরকারে আসার পর নতুন করে বিমান চলাচলের সুবিধার জন্য আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ করি সিলেট ও চট্টগ্রাম। আর রেলকে পুনর্বাসনের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিই। ইতিমধ্যে রেল যোগাযোগটা যাতে আরও উন্নত হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

এসময় শেখ হাসিনা আরও বলেন, সারা বংলাদেশে রেল যোগাযোগের একটা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যখন যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় আমরা এটার ডিজাইন হয়ে যাওয়ার পরে সরকারে আসি।

কিন্তু তখন এসে আমি সিদ্ধান্ত নিই, এই সেতুর সঙ্গে রেল লাইন থাকতে হবে, গ্যাসের লাইন থাকতে হবে, বিদ্যুতের লাইন থাকতে হবে। এবং সেই মোতাবেকই আমরা এর সঙ্গে রেল সংযোগটা সম্পৃক্ত করি। আর এর ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর একটা ভালো যোগাযোগের সুব্যবস্থা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, উত্তরবঙ্গে যেসব রেল যোগাযোগগুলো বন্ধ ছিল, সেগুলো যেমন আমরা চালু করেছি আর ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হওয়ার পর যেসব লিংকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তখনকার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে, সেই লিংকগুলো আবার আমরা চালু করবো। যেটা আমাদের রেলকে আরও লাভবান করবে। এবং আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাটা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় রেল যোগাযোগ ছিল না, আমরা সেখানে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করে দিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। কুড়িগ্রামবাসী প্রথমবারের মতো নতুন এই আন্তঃনগর ট্রেন পাওয়ায় জেলা জুড়ে বিরাজ করছে উত্সবের আমেজ।

কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম সরাসরি ট্রেনটি চালু হওয়ায় যাতায়াতে দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মিলল দারিদ্র্যপীড়িত অবহেলিত এই জেলার মানুষের। ট্রেনটি সপ্তাহের প্রতি বুধবার ছাড়া ছয় দিনই সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিকাল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে এবং ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ৬টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেনটি ১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াতে রংপুর-বদরগঞ্জ, পার্বতীপুর-জয়পুরহাট, সান্তাহার-নাটোর, মাধনগর-টাঙ্গাইল, মৌচাক-বিমানবন্দর এই ১০টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামায় বিরতি থাকছে।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা-কুড়িগ্রামের ২৮৬.৮ মাইল পথ পাড়ি দেবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাত্রাকালে মোট ৬৫৭টি আসন সুবিধা এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাত্রাকালে ৬৩৮টি আসন সুবিধা থাকবে। শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১১৬৮ টাকা এবং এসি বাথ এক হাজার ৮০৪ টাকা আসন ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে। রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) মো. হারুন অর রশীদ জানান, এ ট্রেন সার্ভিসের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে সদ্য আসা নতুন কোচ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অমৃতবাজার/এএস