ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডেঙ্গু চিকিৎসা করে ৩৫৫ কোটি টাকা ক্ষতি


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোববার | আপডেট: ১১:৫০ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোববার
ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডেঙ্গু চিকিৎসা করে ৩৫৫ কোটি টাকা ক্ষতি

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের (ব্যক্তি পর্যায়ে) আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। তবে যারা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন তাদের খরচ এবং ডেঙ্গু থেকে নিরাপদে থাকতে মশা প্রতিরোধী স্প্রেসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার খরচ এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২৭ জন। অর্থাৎ এ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের হার কমেছে ২২ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫৬ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৭১ জন। এ সময়ে রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু ঘটেছে। এ নিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে ১ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪৫ দিনে ১৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ডেঙ্গু রোগীদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে। আমরা ইন্সটিটিউট থেকে নিজ উদ্যোগে এ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা করা হয়েছে। আশা করছি মধ্য অক্টোবর নাগাদ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

গবেষণায় ৪৬টি স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল, ৩৬টি টারশিয়ারি পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল, ৭টি ‘এ’ শ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৮১টি ‘বি’ শ্রেণির হাসপাতালের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি ফি, শয্যা ভাড়া, পরীক্ষার ফি, ডাক্তার ফি, ওষুধ-পথ্য ও খাবার খরচ মিলিয়ে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীপ্রতি ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৯৫২ টাকা।

স্থানীয় হাসপাতাল থেকে যখন রোগীকে টারশিয়ারি পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তখন রোগীর খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৪৯৩ টাকা। বেসরকারি ‘এ’ শ্রেণির হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীপ্রতি খরচ হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৪ টাকা এবং বেসরকারি ‘বি’ শ্রেণির হাসপাতালে এ খরচের পরিমাণ ৪১ হাজার ৩১৯ হাজার টাকা। গবেষণায় এ খরচগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের প্রত্যক্ষ ব্যয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মোট পরিমাণ ২৩১ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ২০৫ টাকা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরোক্ষ ব্যয় ৮৩ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। এছাড়া সরকারি হিসাবে ৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটেছে, যাদের গড় বয়স ৩০ বছর। সেই হিসাবে এ ৬০ জন রোগী পূর্ণ কর্মকাল জীবিত থাকলে তাদের মাধ্যমে রাষ্ট্র যে আর্থিক সুবিধা পেত তার পরিমাণ ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮০ হাজার ৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেই হিসাবে ব্যক্তি পর্যায়ে এসব রোগীর ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৩৫৪ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ১৩৬ টাকা।

অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা সমীক্ষার জন্যে নামিদামি হাসপাতাল ও সাধারণ মানের হাসপাতালের রোগী ও তাদের পরিজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। দেখা গেছে, একজন ডেঙ্গু রোগীর সঙ্গে অন্তত আরও দু’জনকে গড়ে ৮ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়া এবং ৮ দিনের কর্মঘণ্টা এ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ছাড়া অসংখ্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আউটডোর থেকে বা প্রাইভেট চেম্বার থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসা খরচের পাশাপাশি এ রোগ থেকে নিরাপদে থাকতে মশা প্রতিরোধী স্প্রে, কয়েল, মশারিসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম কেনার খরচ গবেষণার বাইরে রাখা হয়েছে। এসব খরচ যুক্ত হলে সামগ্রীক ব্যয় আরও ১০০ কোটি টাকা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা যে পরিসংখ্যানটা করেছি সেটা জনগণ নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করেছে। তবে সরকারকেও প্রচুর টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। যা এখানে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাছাড়া ডেঙ্গু আতঙ্কে অনেকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার আর্থিক ক্ষতি হিসাবে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের এ আর্থিক পরিসংখ্যান তৈরি করা কাউকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশে নয়। ডেঙ্গু এবার যে বড় আকারে হয়েছে, আগামীতেও এমনটি হতে পারে। তাই এর একটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। ডেঙ্গুর গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অম্রিতবাযার/কেএসএস