ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রেনু হত্যা: ছেলেধরা গুজব ছড়ানো সেই নারী আটক


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:০৩ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
রেনু হত্যা: ছেলেধরা গুজব ছড়ানো সেই নারী আটক

 

রাজধানীর বাড্ডায় সন্তানকে ভর্তির জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা। তার নাম তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। রবিবার (২১ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। রেনুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে রেনুকে গণপিটুনিতে হত্যার আগে তাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব রটনাকারী অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ। ওই নারীর নাম রিয়া খাতুন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে উত্তর পুর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রিয়া খাতুনকে আটক করে পুলিশ। গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিসি বলেন, ‘রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ও ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিয়ার কথার সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও হৃদয়ের কথার মিল খোঁজা হচ্ছে। রিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’

এদিকে বাড্ডা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ইয়াছিন গাজী বলেন, ‘রিয়াকে বিকেল তিনটার দিকে ওই স্কুল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিয়াকে আটক করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তার মিল খোঁজা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে রেনুকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত হৃদয়কে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। হ্নদয় পুলিশকে জানায়, সেসহ ১০ থেকে ১৫ জন লোক স্কুলটির দ্বিতীয় তলার প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে রেনুকে নিচে নামিয়ে আনেন। এরপর তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। তার আগে রেনুকে ছেলেধরা প্রথম যে সাজিয়েছে তার মধ্যে কয়েকজন নারী ছিল। সেই নারীদের দেখলে হৃদয় চিনতে পারবে। হৃদয়ের দেওয়া তথ্যমতে রিয়াকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

গত ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তির খোঁজ নিতে ওই স্কুলে যান তাসলিমা বেগম রেনু। এরপর তাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ রেনুকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়।

অমৃতবাজার/এএস