ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রিয়া সাহাকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বহিষ্কার


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার
প্রিয়া সাহাকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বহিষ্কার

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।আজ সোমবার সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিষদের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের জন্য প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এটি অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নির্যাতিত হচ্ছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ তুলছেন প্রিয়া সাহা নামে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংগঠনের এক নেত্রী। যার ভিডিও প্রকাশের পর দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৭ জন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরা সবাই গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আয়োজনে `সেকেন্ড মিনিস্টারিয়াল টু এ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম` নামক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।  

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এতে পাঁচ জন বাংলাদেশী এবং দু`জন রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর একটি প্রতিনিধিদল পাঠায়। যাদের মধ্যে একজন ছিলেন প্রিয়া সাহা।

সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে থেকে `৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান নিখোঁজ হয়েছে (তার ভাষায়)`। তার নিজের বাড়িঘরও আক্রান্ত হয়েছে কিন্তু এর কোন বিচার হয় নি। ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সাহায্য করেন। যাতে তারা দেশে থাকতে পারে।

প্রিয়া সাহার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের ভিডিওটি অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এক দিনের মধ্যেই। পড়তে থাকে অসংখ্য মন্তব্য। ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় বিতর্ক। এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন সরকারের মন্ত্রীরাও।

এদিকে, প্রিয়া সাহার অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার শনিবার বলেছে, এসব অভিযোগ ভয়ংকর মিথ্যা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সাজানো গল্পের পেছনে অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এসব অভিযোগ কেন আনা হয়েছে, প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদের প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে `দেশদ্রোহী বক্তব্য দেবার` অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা বলেন।

অমৃতবাজার/এএস