ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এরশাদের দাফন নিয়ে পরিবারে দ্বন্দ্ব


অমৃতবাজার রিপোর্ট 

প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার
এরশাদের দাফন নিয়ে পরিবারে দ্বন্দ্ব

 

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কোথায় দাফন করা হবে, এ ব্যাপারে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন তার পরিবার ও নেতাকর্মীরা। কেউ চাইছেন এরশাদকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হোক।

কেউ চাইছেন তাকে উন্মুক্ত স্থানে কবর দেওয়া হোক। আবার কেউবা চাইছেন তাকে রঙপুরেই দাফন করা হোক। তবে সর্বশেষ সামরিক কবর স্থানেই দাফনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার দলের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। রোববার বিকেলে বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

এদিকে সকালে সিএমএইচে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ বলেন, এরশাদের শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে সামরিক কবরস্থানে যেন দাফন করা হয়। তার ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

রওশন এরশাদ এর এ কথা মানতে রাজি নয় দলের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি এরশাদকে যেন উন্মুক্ত স্থানে কবর দেওয়া হয়। এ দাবি আদায়ে নেতা কর্মীরা বিক্ষোব করেছেন।

রবিবার বিকালে বানানী কার্যালয়ের সামনে উন্মুক্ত স্থানে কবর দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তাদেরকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান রাঙ্গা।

মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদের দাফন কোথায় হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী ১৬ জুলাই দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির মহাসচির বলেন, ‘নেতাকর্মীদের দাবি অনুয়ায়ী এরশাদের দাফন কোথায় হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এরশাদ সাহেব চেয়েছেন সেনাবাহিনীর কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হোক। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের দাবিকে প্রাধ্যান্য দিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে এরশাদের গ্রামের বাড়ি রংপুর থেকে দাবি তোলা হয়েছে তাকে যেন রংপুরেই দাফন করা হয়। দাফনের বিষয়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘এরশাদ স্যার যদি পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন, তাহলে তার পবিত্র সমাধি কোথায় হবে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র দাবি, রংপুরের পল্লীনিবাসে তার সমাধি করা হোক।’

অন্যদিকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুরের আদাবরে জায়গা কিনে কবর দেয়ার প্রস্তাব দেন। যেখানে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আদাবরে জায়গা না পাওয়া গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা জমি এরশাদের কবরস্থানের জন্য লিখে দেব।’ তবে পরিবার ও এরশাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হবে। বেলা ১১টায় এরশাদের মরদেহ নেয়া হবে কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে।

বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এরশাদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রাতে সিএইমচের হিমঘরে এরশাদের মরদেহ রাখা হবে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এরশাদের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে রংপুরে। সেখানে জানাজার পর মরদেহ নিয়ে আসা হবে ঢাকায়। পরে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

গত ২৬ জুন সকালে এরশাদ (৮৯) অসুস্থবোধ করলে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিন-স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

রোববার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

অমৃতবাজার/এএস