ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৭ এএম, ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পেলে বাবার আত্মা কষ্ট পাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের একটি মানুষও যদি কষ্ট পায় আমি জানি আমার বাবার আত্মা কষ্ট পাবে। কাজেই আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে করে এদেশের প্রতিটা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও এটাই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পূর্বসূরীরা যেভাবে আত্মত্যাগ করে গেছেন ঠিক প্রত্যেক নেতাকর্মীকে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।’

তিনি এ সময় ভোট দিয়ে তার সরকারকে নির্বাচিত করায় দেশের উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে পেরেছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই যারা আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন, ভোট দিয়েছেন, নির্বাচিত করেছেন, বার বার নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই এই উন্নয়ন আজকে আমরা করতে পেরেছি।’

তিনি এ সময় কোনোভাবে কোনো আত্ম অহংকারকে মনের মধ্যে ঠাঁই না দেওয়ার জন্য দলের অগণিত নেতাকর্মীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা অহমিকা করব না, মাটির সঙ্গে মিশে চলব। মানুষের সঙ্গে মিশে চলব। কিন্তু দেশের মানুষের যেন কল্যাণ হয় এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন আন্তর্জাতিভাবে মর্যাদা নিয়ে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে দেশকে আমরা সেইভাবে গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরে যে সংগ্রামের ইতিহাস এবং যে অর্জন, সেই অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ আজ উজ্জ্বল।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন এবং সহমর্মিতার যে সম্পর্ক ছিল সেটাই আওয়ামী লীগের প্রকৃত শক্তি ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সে সময়কার কিছু স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদককে (শামসুল হক) গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দিনের পর দিন কারা নির্যাতন সহ্য করতে পারেননি। জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী যদি আপনারা ভালো করে পড়েন তাহলে দেখবেন শামসুল হক কীভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, বহুবছর তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি, পরে জেনেছি তিনি নিজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মারা যান। তবে, আমি দেখেছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ করেন যে, মওলানা ভাসানী দল ত্যাগ করে গিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করলেও বঙ্গবন্ধু তাকে সবসময় সম্ভাব্য সবরকমের সহযোগিতা করতেন। তেমনি পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর তিনি তা অব্যাহত রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মওলানা ভাসানী দল ছেড়ে চলে গেছেন। ‘কিন্তু তিনি তো বাঙালির ইতিহাসের একটা অংশ।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীদের ওপর বার বার আঘাত এসেছে, ১৯৪৮, ’৫২ এবং ’৫৪ সালে যখন ৯২ ক ধারা দিয়ে যুক্তফ্রণ্টের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হলো তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলেন। এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল’ এলেও সবার আগে আঘাত আসলো আওয়ামী লীগের ওপর। প্রতিটি বার আওয়ামী লীগ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি এই আওয়ামী লীগ কর্মীরাই জাতির পিতার বক্তব্যকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজের জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘কত মানুষ (দলীয় নেতাকর্মী) তাদের ঘর, সংসার পরিবার-পরিজনের কথা চিন্তাও করেননি। দেশের কথা চিন্তা করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সব থেকে বড় গুণ হলো দেশের মানুষের প্রতি তাদের কর্তব্য বোধ, দায়িত্ববোধ, ভালবাসা, ত্যাগ-তিতীক্ষা।’

তিনি বলেন, ‘এই এত ত্যাগ-তিতীক্ষা রয়েছে বলেই বার বার আঘাত আসা সত্ত্বেও এই দলটি ৭০ বছর টিকে আছে’।

স্বাধীনতার পর পরই এবং ’৭৫ এ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে তা ভাষায় বর্ণনাতীত।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি দেখি আমার মনে হয় না কোনো রাজনৈতিক দল একটা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এতটা আত্মত্যাগ করেছে, যতটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতটা নির্যাতন সহ্য করেছে যা আর কেউ করেনি।

দলের ওপর বার বার শাসক গোষ্ঠীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করি কাজেই জনগণের অধিকার যারা কেড়ে নেয় তাদের একটা শ্যেণ দৃষ্টি থাকে আওয়ামী লীগের ওপর। এই দলটাকে ধ্বংস করার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর ভাঙ্গা গড়ার খেলা তো রয়েছেই। তবে, আওয়ামী লীগ এমনই একটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রকারীরা এটাকে বারবার ভেঙেছে। হিরার টুকরো যত বেশি কাটা হয় সেটার যেমন ঔজ্জ্বল্য বাড়ে, আওয়ামী লীগের বেলায় সেটাই হয়েছে।’

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, এই আঘাতটা শুধু যে পাকিস্তান আমলেই হয়েছে তা নয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারপ্রধান বেগম জিয়াকে গ্রেফতার না করে বিরোধীদলে থাকার পরেও আমাকে আগে গ্রেফতার করা হয়, মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে আঘাত আসল আওয়ামী লীগের ওপর, আমার ওপর। দেশে আসতে দেবে না, যখন জোর করে দেশে আসলাম তখন আমাকেই আগে গ্রেফতার করা হলো।’

যতবারই ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে দলটা তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সেটা প্রমাণ হয়েছে ২০০৮ সালের নির্বাচনে।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ভোটে শতকরা ৮৪ শতাংশ ভোট পড়ে এবং খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি মাত্র ২৯ আসন লাভ করে। অর্থাৎ জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা সেবারই তারা হারিয়েছিল।’

তিনি বলেন, বিএনপি’র দুর্নীতি, খালেদা জিয়ার এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎ, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাই সৃষ্টি, সারাদেশে একযোগে ৫শ’ স্থানে বোমা হামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য শাহ এএমএস কিবরিয়া এবং আহসানউলাহ মাষ্টার হত্যাকাণ্ড, হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি এবং মানুষের সম্পদ লুট করে খাওয়া, স্বজনপ্রীতি এবং তাদের দুঃশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে দেশের উন্নতি হয়, বাংলার মানুষ কিছু পায়- যেটা প্রমাণিত সত্য।

অমৃতবাজার/আরএইচ