ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একজন ভাষা সৈনিকের শেষ ইচ্ছা, প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা!


জোনায়েদ আনসারী

প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১০ জুন ২০১৯, সোমবার
একজন ভাষা সৈনিকের শেষ ইচ্ছা, প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা!

 

প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো আজিম উদ্দিন আহমেদ, পিতা মরহুম শেখ শমসের আলী, মাতাঃ তাহমিনা রতিজন, গ্রাম জারিয়া নাটেরকোনা, থানাঃ পূর্বধলা, জেলাঃ নেত্রকোনা, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে আজীবন ছাত্রত্ব হারানো ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংগ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান, নেত্রকোনা জেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। 

ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি নবম শ্রেনীর ছাত্র, মাতৃভাষা বিসর্জন দিয়ে অন্য ভাষাকে মুখের বুলি করতে রাজি ছিলেননা। আঞ্জুমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাহিত্য আসরে, সরকারকে ব্যাঙ্গ করে স্বরচিত হে বিলাসী ও আজব ভূড়ি,  এই দুটি কবিতা পাঠ করলে তার নামে হুলিয়া জারি হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আজীবনের জন্য বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। 

মেধাবী ছাত্রটির জন্য শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু বারবার তদবির করেন, তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ভাগ্যে আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় নাই তার।  ১৯৭০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী সফরে নেত্রকোনা এলে খুব সহজেই চিনে নেন আজিম উদ্দিন কে,  তাইতো ভালোবেসে কাছে রেখেছিলেন আর বলেছিলেন জীবনে অনেক বড় হবি নীতি বিবর্জিত কাজে কখনো আপোষ করবিনা । 

সাদা মনের সরল মানুষ টি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের গান গেয়ে গেছেন সারাটি জীবন ,  আওয়ামী লীগের দুঃর্দিনে নির্যাতন সহ্য করেও দলের জন্য লড়ে গেছেন । স্বার্থান্বেষী লোভীদের মতন টাকার পাহাড় গড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দলের বদনাম ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থী কাজ হবে বলে নিজেকে সব সময় বিতর্কের উর্ধ্বে রেখেছেন ।  

৬ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক আজিম উদ্দিন প্রতিটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন । ৯০ বছর উর্ধ্ব মানুষ টি আজ পাগল প্রায় হন্যে হয়ে ঘুরছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবেন বলে, প্রিয় নেতার সন্তানকে এক নজর দেখে দুটি কথা বলবেন বলে। হন্যে হয়ে ঘুরেছেন অনেকের কাছে আশ্বাস মিলেছে কিন্তু দেখা মেলেনি প্রিয় নেত্রীর, জীবনের শেষ অধ্যায়ে একজন ভাষা সৈনিক তার ইচ্ছে টা পূরণ করতে পারবে বলে এলাকাবাসীর কামনা । 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিষয়টি নজরে নিয়ে একজন ভাষা সৈনিক ও দলের ত্যাগী কর্মীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

অমৃতবাজার/জোনায়েদ/এএস