ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হার্ট অ্যাটাকে রাজনের মৃত্যু: ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা



প্রকাশিত: ০২:০১ এএম, ২৫ মার্চ ২০১৯, সোমবার
হার্ট অ্যাটাকে রাজনের মৃত্যু: ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের স্বাভাবিক মৃত্যুকে ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। একটি কুচক্রিমহল এ মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল তৈরির অপচেষ্টা করছে। আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া (হার্ট অ্যাটাক) বন্ধ হয়ে ডা. রাজনের এই অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে খাদ্যমন্ত্রী ও তার পরিবারকে বিপাকে ফেলার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে রয়েছে।

গত ১৬ মার্চ রাত ৩টার দিকে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়নে ডা. রাজন কর্মকার। তাকে তাৎক্ষণিক রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে ডা. রাজন মারা গেছেন। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। স্কয়ার হাসপাতালের ডিউটিরত ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে ডা. রাজনকে তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা তাকে পরীক্ষা করে লাইফের চিহ্ন পাইনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছি, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার শরীরে কোনো জখম বা আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

অথচ, ডা. রাজনের অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি মহল রাজনের স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা ও তার বাবা খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা এমন একটি শোকাবহ বিষয়কে নিয়ে ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ ময়না তদন্তের দাবি জানালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ময়নাতদন্তে রাজনের শরীর থেকে কোনো ধরণের আঘাতের বিষয়টি পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ময়না তদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক বিভাগ থেকে ময়না তদন্তে ডা. রাজনের শরীরের বাইরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডা. রাজনের অকাল মৃত্যুতে তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার ও শ্বশুর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বামীর মৃত্যু শোক স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা মজুমদার কোনোভাবেই সইতে পারছেন না বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। আর শ্বশুর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও মেয়ের জামাতার এমন অকাল মৃত্যুতে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছেন।

ডা. রাজনের মৃত্যুর পর থেকে তার স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হতে পারছেন না বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। স্বামীর শোকে তিনি প্রায়ই মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এমন আসস্মিক ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।