ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খাদ্যমন্ত্রীর জামাতার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৬ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:১৫ এএম, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার
খাদ্যমন্ত্রীর জামাতার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজন কর্মকারের (৩৯) মৃত্যু হয়েছে। তিনি খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা।

জানা যায়, গত শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে একটি অপারেশন করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসায় যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজন কর্মকার।

বাসার নিরাপত্তাকর্মী জানান রাত সাড়ে ৩টার দিকে কৃষ্ণা তার স্বামী রাজনকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্য বের হয়ে যান, পরে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এই ঘটনায় রাজনের মামা সুজন কর্মকার শেরেবাংলানগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাজন কর্মকার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অষ্টম ব্যাচের (বিডিএস) ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ী নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের এখলাসপুরে। তার বাবার নাম সুনীল কর্মকার।

শেরে বাংলা নগর থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ স্কয়ার হাসপাতাল থেকে জানান, রাজনকে ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন, আমরা তার চিকিৎসার কাগজপত্র দেখেছি, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, নিহত রাজনের শরীরে কোনো আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

প্রয়াত ডা. রাজন কর্মকারের স্ত্রী ডা. কৃষ্ণা রানী মজুমদার নিজেও একজন চিকিৎসক। তিনি বিএসএমএমইউ এর সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে রাজনের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এরপর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে রাজন ইন্দিরা রোডের ৪৭ নম্বর হাশেম বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, চিকিৎসক রাজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তিনি ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা মজুমদার আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক। তবে রাজনের কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে পারিনি।

জানাগেছে গত ৬ই মার্চ বুধবার হতে রাজন নওগাঁয় শালিকা সাথী মজুমদারের বিবাহ অনুষ্ঠানে পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে ৯ই মার্চ শনিবার পযর্ন্ত নওগাঁতে অবস্থান করে, ঐ দিন রাতে স্বপরিবারে ঢাকায় ফিরে আসেন। হঠাৎ করে গত শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে এই ঘটনা ঘটে।

নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে তৃণমূলের (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান) রাজনীতি থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে বিতর্কিত করতেই একটি মহল এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলেও প্রচারণা রয়েছে। মন্ত্রীর পরিবারকে বিপাকে ফেলতেই কায়দা করে তাঁরা কোন বিশেষ চক্রের প্ররোচনায় এমন অভিযোগ তুলছেন কীনা এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তবে পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে।

অমৃতবাজার/এএস