ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


মেহেদী হাসান

প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | আপডেট: ০৭:২১ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদশের ইতিহাসে আলোচিত এক কিংবদন্তী প্রয়াত মেয়র মো: আনিসুল হক। বাংলাদেশের মানুষের মনের আকাশে দীপ্তমান নক্ষত্রের মতো জ্বলে থাকবেন আজীবন। হয়তবা কোনো একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, অত্যাধুনিক ও ডিজিটাল দেশের ক্ষ্যাতি অর্জন করবে, কিন্তু তার দেখিয়ে যাওয়া স্বপ্নের কথা কোনো দিনই ভুলতে পারবে না ঢাকা বাসী, পুরো বাংলাদেশের মানুষ।

১৯৫২ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৮০ দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আনন্দমেলা’ ও ‘অন্তরালে’ নামে দু’টি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছর পরেই মারা যান মেয়র আনিসুল হক। তার অকাল মৃত্যুতে স্বপ্নের সেই ঢাকা আজও অধরা। বহু উন্নয়ন কাজ শুরু করলেও তা শেষ করে যেতে পারেননি তিনি। গত বছরের ২৯ জুলাই লন্ডনে আনিসুল হকের সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ) রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনিসুল হক। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ‘স্মার্ট’ নগরী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বেশকিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত হন তিনি।

মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হলো :

১.২০১৫ সালে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করেন তিনি।

২.মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই অবরুদ্ধ ঢাকা শহর থেকে সমস্থ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে অবারিত ও মুক্ত করে দেন খোলা আকাশকে।

৩.শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তাকে দখলমুক্ত করে গতিময় করে তোলেন পরিবহন ও গাড়ি চলাচল।

৪.সমস্থ পার্কগুলো দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন সাধারণ জনতার কাছে। পথচারীদের জন্য নির্মাণ করেন আধুনিক টয়লেট।

৫.গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন।

৬.বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন।

৭.ঢাকাকে সবুজের সমারোহ ফিরিয়ে আনতে পাঁচ লাখ গাছের চারা বিতরণের কর্মসূচি শুরু করেন।

৮.ঢাকা শহরের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চার হাজার বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। বর্তমানের বাস কোম্পানি গুলোকে তুলে দিয়ে ছয়টি কোম্পানির অধীনে চার হাজার বাস চালানোর পরিকল্পনা নেন।

৯.ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ২০১৫ সালে সাতরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন (লেন পরিবর্তন করতে ভূমিতেই গাড়ি ঘোরানোর জায়গা) নির্মাণের পরিকল্পনার নেন।

১০.বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেন।

১১.গাবতলীতে অবৈধ দখলে থাকা ৫২ একর জমি উদ্ধারের পর সেখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, বাস, ট্রাক ডিপোসহ কিছু স্থাপনা করার পরিকল্পনা নেন।

১২.ডিএনসিসি এলাকাকে আলো ঝলমলে ও নিরাপদ করতে এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত মেয়র। তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এলইডি সড়কবাতি, সিসি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়। ৪৪২ কোটি ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদনও পায় একনেকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অাজও স্বপ্নই থেকে যাই।

অমৃতবাজার/মেহেদী