ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শান্তিরক্ষায় বরাদ্দ কমালে বিপদ বাড়বে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
শান্তিরক্ষায় বরাদ্দ কমালে বিপদ বাড়বে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাজেট ও লোকবল কমানো হলে তা বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোয় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার‌্যক্রমে যেসব দেশের অবদান বেশি তাদের কথা ও উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনার আহবান জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে খরচ এবং কর্মী কমালে তা শান্তি মিশনের কাজে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। শান্তিরক্ষায় সামনের সারিতে যারা কাজ করছে, তাদের উদ্বেগের বিষয়টি আবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।

প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার জাতিসংঘ ও শান্তি মিশনের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে আনার পথে হাঁটছে। গতবছর যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা মিশনের মোট বাজেটের ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ দিতে রাজি হলেও ডিসেম্বরে তা ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমানোর ঘোষণা দেয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবারও জাতিসংঘে তার বক্তৃতায় বলেছেন, শান্তি মিশনের মোট বাজেটের ২৫ শতাংশের বেশি তার দেশ দিতে রাজি নয়।

কিন্তু যেসব দেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে, তাদের কথাতেও যে নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের সচিবালয়ের আস্থা রাখা উচিৎ- সে বিষয়টি বিশ্ব নেতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে `অ্যাকশন ফর পিস কিপিং` শীর্ষক ওই বৈঠকে শান্তি মিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বের মানুষের মঙ্গলের জন্য। সুতরাং এ কার্যক্রমের মর্যাদা রক্ষায় অবশ্যই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

বহু মানুষের জীবনে জাতিসংঘের এই শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আশার আলোকবর্তিকা; তাই এটাকে আমাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষীদের এমন সব জায়গায় পাঠানো হয়; যেখানে অশান্তি বিরাজ করছে। সেখানে তাদের নানা ধরনের অরাজকতা ও হুমকির মোকাবেলা করতে হয়। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানের সেনা সদস্যরা শান্তিরক্ষা মিশনে পাশাপাশি কাজ করে। এসব বিষয় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে কঠিন ও বিপজ্জনক করে তোলে।

এ কারণে শান্তিরক্ষীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। আর সেই দায়িত্ব পালনে তাদের যথেষ্ট কর্তৃত্ব এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করতে হবে। মোতায়েনের ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতা বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের নিরাপত্তা অবশ্যই বাড়াতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তোনিও গুতেরেস শান্তি মিশনে শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানির উচ্চ হার দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যাকশন ফর পিস কিপিং (এফোরপি) নামের এ উদ্যোগ নেন। শন্তি মিশনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতিসংঘের এ কার্যক্রমকে আরও বেশি কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্র, নিরাপত্তা পরিষদ, মিশনে অংশগ্রহণকারী দেশ ও দাতা সংস্থাগুলোকে নিয়ে একযোগে কাজ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ কখনও ব্যর্থ হয়নি। শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের অনেক শান্তিরক্ষীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তবু দায়িত্ব পালনে আমরা কখনও পিছ পা হইনি। এখন আমরা স্বল্পতম সময়ে আমাদের শান্তিরক্ষী মোতায়েন করতে পারি। যে কোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করার মত প্রশিক্ষণ তাদের দেওয়া হয়। যেখানে তারা যায়, মানুষের হৃদয় ও মন জয় করতেই তারা কাজ করে।

বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের নিরাপদ রাখার সক্ষমতা শান্তিরক্ষীদের থাকতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার কাজটি তাদের করতে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে মালিতে শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষায় মাইন প্রতিরোধক যানবাহন সরবরাহ করার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। ব্যক্তিগত আগ্রহে শান্তিরক্ষা মিশনে নারী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কঙ্গোতে প্রথম নারী হেলিকপ্টার পাইলট পাঠিয়েছি। এটি আমাদের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। শান্তি মিশনে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে।

কিন্তু এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকার জাতিসংঘ ও শান্তি মিশনের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে আনার পথে হাঁটছে। গতবছর যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা মিশনের মোট বাজেটের ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ দিতে রাজি হলেও ডিসেম্বরে তা ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমানোর ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবারও জাতিসংঘে তার বর্ক্তৃতায় বলেছেন, শান্তি মিশনের মোট বাজেটের ২৫ শতাংশের বেশি তার দেশ দিতে রাজি নয়।

যেসব দেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে, তাদের কথাতেও যে নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ সচিবালয়ের আস্থা রাখা উচিত-সে বিষয়টি বিশ্ব নেতাদের মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ আছে সামনের কাতারে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৬৭ জন জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে আছেন ১৬৬ জন নারী। ইথিওপিয়া ও রুয়ান্ডার পর বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী এখন বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ’ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হয়েছেন। সূত্র: বাসস

অমৃতবাজার/সুজন