ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাড়ি নয়, ইতিহাস


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৭ এএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮, বুধবার
বাড়ি নয়, ইতিহাস

বাংলাদেশ সৃষ্টির সূতিকাগার বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িটি একটি ইতিহাস। জাতির জনকের বাড়ির এই জাদুঘর ঘুরতে এসে যেন নতুন এক ইতিহাস চোখের সামনে ধরা দিল। কিন্তু এত আটপৌরে সাধারণ আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় দেখে অবাক হতে হয়।

‘কারণ এখানে শুধু একটি পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন নয়, রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের ছবি। যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।’ জাদুঘরের দেয়ালে বুলেটের চিহ্ন, বঙ্গবন্ধু গুলি খেয়ে যে সিঁড়িতে পড়েছিলেন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাঙালির ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এছাড়াও আছে বাঙালির স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস, আছে হারানোর বেদনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে একদল বিশ্বাসঘাতক খুনির হাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের নিজ বাড়িতে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ছায়া সুনিবিড়, সবুজ গাছে ঘেরা সাদা রঙের তিন তলা বাড়িতে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। বলা যায়, এক তলার প্রথম কক্ষটিতে বঙ্গবন্ধু ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তোলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। এই ছবির মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এই তলায় আরও আছে পরিবারের নিহত অন্য সদস্যদের তৈলচিত্র। দোতলায় বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষ। ১৫ আগস্ট ভোরে বেগম মুজিব, জামাল, কামাল, রাসেল ও বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ এখানে পড়েছিল। আর এ ঘরের সামনে করিডোর থেকে নিচে যাওয়ার জন্য যে সিঁড়ি সেখানেই ঘাতকদের গুলিতে মারা যান বঙ্গবন্ধু।

এখনও গুলির স্পষ্ট চিহ্ন সেখানে রয়ে গেছে। সিঁড়িটি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মরদেহ যেখানে পড়েছিল সেই জায়গাটিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষে তার বিছানার পাশেই ছোট টেবিলে সাজানো আছে তার সবসময়ের সঙ্গী পাইপ, তামাকের কৌটা।

এই কক্ষে আরো আছে টেলিফোন সেট, রেডিও। কিছু রক্তমাখা পোশাক। সামনের খাবার ঘরের পাশেই আছে শিশু রাসেলের ব্যবহার করা বাইসাইকেল। উল্টো দিকে শেখ জামালের কক্ষে দেখা যায় তার সামরিক পোশাক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার কক্ষও একই তলায়। বাড়ির তৃতীয় তলায় শেখ কামালের কক্ষ। এই কক্ষে তার বিভিন্ন সংগীতযন্ত্র সাজিয়ে রাখা আছে। বাড়ির রান্নাঘরের হাঁড়িগুলো বেশ পরিপাটি করে সাজানো।

জাদুঘরের পেছনের অংশে রয়েছে সম্প্রসারিত নতুন ভবন। ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র রয়েছে আর পঞ্চম তলায় পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র।

অমৃতবাজার/জয়