ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ০৮ আগস্ট ২০১৮, বুধবার
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে জাতির পিতা হত্যাকারীদের নিষ্ঠুর, বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে স্বামী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনিও শাহাদাত বরণ করেন।

পাকিস্তানী শাসনকালে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবন্দী করা হলে এই মহীয়সী নারীকেও অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালেও অসীম সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ছাত্র সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব হল বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব স্মৃতি স্বর্ণপদক, বৃত্তি, স্মৃতি বক্তৃতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামাদ, ট্রেজারার এবং ট্রাস্ট ফান্ড সভাপতি প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন।

এছাড়া বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব স্মৃতি বক্তৃতা দেবেন। হল প্রভোস্ট ড. জাকিয়া পারভিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  মঙ্গলবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেবল জাতির পিতার সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে তিনি নেপথ্য কারিগর।

শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্ম। তার ডাকনাম ছিল রেণু। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। যে-কোনো পরিস্থিতি তিনি বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মোকাবিলা করতেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী হওয়ায় পর তার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সেই কঠিন সময়গুলো স্বামীর পাশে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেবল জাতির পিতার সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে তিনি নেপথ্য কারিগর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বামী-পুত্র-পুত্রবধূসহ নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শহিদ হন। জাতির ইতিহাসে সে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। বঙ্গমাতা আমাদের মাঝে না থাকলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে। জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেছার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বঙ্গমাতা পরিষদ আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং গুণীজনদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ।

অমৃতবাজার/জয়